
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনেকেই এই ভয়ংকর হ্রদটির কথা শুনেছেন। ইন্দোনেশিয়ার কাওয়াহ ইজেন (Indonesia Kawah Ijen) আগ্নেয়গিরির সেই বিখ্যাত নীল আগুনের হ্রদ (Deadly Acid Lake)। ইন্দোনেশিয়ার এই ভয়ংকর হ্রদে নীল আগুনে জ্বলে ওঠে। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় অবস্থিত কাওয়াহ ইজেন কোনো সাধারণ আগ্নেয়গিরি নয়। বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত এবং বিপজ্জনক এই প্রাকৃতিক অঞ্চল। বিস্ময়ের এই আগ্নেয়গিরি পর্যটক এবং বিজ্ঞানীদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়।
নীল আগুন-রহস্য
সাধারণত আগ্নেয়গিরি থেকে লাল বা কমলা রঙের লাভা বেরোতে দেখা যায়। কিন্তু কাওয়াহ ইজেনে দেখা যায় এক অদ্ভুত নীল আগুন। কেন এমন হয়? এটি আসলে লাভা নয়। মাটির তলা থেকে অত্যন্ত উচ্চ চাপে সালফার গ্যাস বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যখন বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে এবং তাপমাত্রা ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে! তখনই তা নীল শিখায় জ্বলে ওঠে। ভয়ংকর, তবে রাতে এই দৃশ্যটি অত্যন্ত মায়াবী দেখায়।
বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাসিড হ্রদ
এই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বিশাল হ্রদ। তবে এই হ্রদটি সাধারণ জলের নয়, এটি অ্যাসিড হ্রদ। এটি ঘনীভূত সালফিউরিক অ্যাসিডের হ্রদ। এর পিএইচ (pH) মাত্রা প্রায় ০.৫, যা এতই শক্তিশালী যে, নিমেষের মধ্যে ধাতব বস্তু পর্যন্ত গলিয়ে দিতে পারে। অ্যাসিডের উপস্থিতির কারণেই হ্রদের জলের রঙ অপূর্ব পান্না-সবুজ বা টার্কুইশ! দেখতে সুন্দর হলেও প্রাণঘাতী।
বিষাক্ত ধোঁয়া, পিঠে গন্ধক
এলাকাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ, এখান থেকে অনবরত বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। এখানকার খনি শ্রমিকরা তাই প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা কোনো আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়াই বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের নীচে নামেন। জমাট বাঁধা সালফার, যাকে গন্ধক বলে, বড় বড় ঝুড়িতে করে পিঠে বয়ে নিয়ে আসেন তাঁরা। এক একজন শ্রমিক প্রায় ৭০ থেকে ৯০ কেজি ওজন পাহাড়ের খাঁজ বেয়ে উপরে তোলেন।
পর্যটকদের জন্য
অত্যাশ্চর্য নীল আগুন দেখার জন্য হাজার হাজার পর্যটক এখানে ট্রেকিং করতে আসেন। বিষাক্ত গ্যাস থেকে বাঁচতে পর্যটকদের অবশ্যই গ্যাস মাস্ক পরতে হয় এখানে।
(Feed Source: zeenews.com)
