Zubeen Garg Was Very Drunk: মদ খেয়ে পুরো চুর, 100 ml রক্তে 333 mg অ্যালকোহল! জুবিনের মৃত্যু তদন্তে পরপর হাড়হিম তথ্য

Zubeen Garg Was Very Drunk: মদ খেয়ে পুরো চুর, 100 ml রক্তে 333 mg অ্যালকোহল! জুবিনের মৃত্যু তদন্তে পরপর হাড়হিম তথ্য

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গতবছর ১৯ সেপ্টেম্বর ৫২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছিলেন জুবিন গর্গ (Zubeen Garg)। অসমের মিউজিক আইকন সিঙ্গাপুরে মারা গিয়েছিলেনসেখানে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালে গান গাওয়ার কথা ছিল জুবিনের। প্রাথমিক ভাবে গায়কের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে নিশ্চিত করা হয় যে, সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় গায়ক-গীতিকারের।জুবিনের মৃত্যুর তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর মৃত্যু তদন্তে একাধিক সব হাড়হিম তথ্য উঠে আসছে। জুবিনের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা বেড়েই চলেছে। গত মাসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছিলেন যে, গায়ককে খুন করা হয়েছে। বুধবার ১৪ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর পুলিস আদালতে জুবিনের মৃত্যু সংক্রান্ত পরপর সব হাড়হিম তথ্য দিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে যে, ডুবে যাওয়ার সময়ে জুবিন মদ খেয়ে পুরো চুর ছিলেন!

লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলা হয়, দ্বিতীয়টি নিতে অস্বীকার করেন

জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান তদন্তকারী আধিকারিক আদালতকে জানান যে, জুবিন সাঁতার কাটার সময় প্রথমে একটি লাইফ জ্যাকেট পরেছিলেন, কিন্তু পরে সেটি খুলে ফেলেন। যখন তিনি আবার জলে নামার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁকে দ্বিতীয় ছোট লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়, যা তিনি পরতে অস্বীকার করেছিলেন। চ্যানেল নিউজ এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুসারে জুবিন লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই জলে নামেন এবং একাই লাজারাস দ্বীপের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। পরে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দেখেন যে জুবিন তাঁর ইয়টের দিকে সাঁতরে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। এরপর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন এবং জলে মুখ থুবড়ে ভাসতে থাকেন।

উদ্ধারে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়

জুবিনকে দ্রুত ইয়টে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁকে সিপিআর দেওয়া হয়। তবে তখনই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জলে ডুবে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়। জুবিনের শরীরে পাওয়া আঘাতগুলি সিপিআর এবং উদ্ধার প্রচেষ্টার কারণে হয়েছিল বলেই জানানো হয়।

রক্তে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল

টক্সিকোলজি পরীক্ষায় জানা যায় যে গর্গের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ৩৩৩ মিলিগ্রাম! যা গুরুতর নেশাগ্রস্ততা এবং সমন্বয় ও প্রতিবর্ত ক্রিয়ার অক্ষমতার ইঙ্গিতই দেয়। সিঙ্গাপুরে রক্তে অ্যালকোহল আইনি সীমা প্রতি ১০০ মিলিতে ৮০ মিলিগ্রাম। পুলিস জুবিনের হোটেলের ঘর থেকে ৪৩ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত একটি ৭৫০ এমএলের স্কচ হুইস্কির বোতলও বাজেয়াপ্ত করেছে। যা প্রায় ২৫ শতাংশ ভরা ছিল।

ইয়টে মদ্যপান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য

তদন্তকারী আধিকারিক আদালতকে জানান যে, ইয়টে থাকা ২০ জনেরও বেশি লোকের মধ্যে জুবিনও ছিলেন, যাঁদের মধ্যে তাঁর বন্ধু এবং সহকর্মীরাও ছিলেন এবং তাঁরা সবাই স্ন্যাকসের সঙ্গে পানীয় ও অ্যালকোহল পান করছিলেন। বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জুবিনকে মদ খেতে দেখেছিলেন বলেই জানান। একজন বলেন যে, জুবিন গিনেস স্টাউটের চুমুকের পাশাপাশি একাধিক গ্লাস মদ, জিন এবং হুইস্কিও খেয়েছিলেন। প্রথমবার সাঁতার কাটার পর জুবিন ইয়টে ফিরে আসেন এবং তাঁকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি ক্লান্ত। এরপরই তিনি আবার সাঁতার কাটার সিদ্ধান্ত নেন। আদালতে জানানো হয়েছে যে, জুবিনের উচ্চ রক্তচাপ এবং মৃগীরোগের চিকিৎসার ইতিহাস ছিল এবং শেষবার ২০২৪ সালে মৃগীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও জুবিনের রক্তে উভয় রোগের ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, তবে ঘটনার দিন তিনি মৃগীরোগের ওষুধ খেয়েছিলেন কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি, কারণ প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অস্পষ্ট ছিল। ফরেনসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, জুবিন মৃগীরোগের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য জিহ্বা কামড়ানোর মতো কোনো চিহ্ন ছিল না।

ইয়ট ক্যাপ্টেনের সাক্ষ্য

‘ক্রেজি মাঙ্কি’ নামের ইয়টটির ক্যাপ্টেন আদালতকে বলেছেন যে, জুবিন যখন ইয়টে উঠছিলেন,তখন তিনি তাঁর দুই বন্ধুকে তাঁর হাত ধরে থাকতে দেখেছিলেন, কারণ তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। তিনি আরও বলেছেন যে কিছু যাত্রী ইয়টে ওঠার আগেই মদ্যপান শুরু করেছিলেন এবং তিনি দুটি নিরাপত্তা ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন তাঁর বিবৃতিতে বলেন, যখন আমি জুবিনকে দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট ছাড়া জলে নামতে দেখলাম, তখন আমি তাঁর বন্ধুকে বললাম যে, ও মাতাল এবং যদি ও জলে নামতে চায়, তবে তাঁকে অবশ্যই একটি লাইফ জ্যাকেট পরতে হবে তিনি আরও বলেন যে, যখন তিনি জুবিনকে জলে মুখ নীচু করে পড়ে থাকতে দেখেন, তখন তিনি অবিলম্বে অন্যদের সতর্ক করেন এবং তার দিকে সাঁতার কাটেন। যখন তিনি জুবিনের মাথা থেকে জল সরিয়ে দেন, তখন তিনি তাঁর মুখ ও নাক থেকে ফেনা বের হতে দেখেছিলেন, যাঁর গন্ধ তিনি ভয়ংকরহিসেবেই বর্ণনা করেছেন। 

(Feed Source: zeenews.com)