
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এই প্রথম মুম্বইয়ের ‘দখল’ নিল বিজেপি! মুম্বইয়ে ঠাকরেদের ২৮ বছরের ‘একনায়কতন্ত্রে’র অবসান ঘটাল বিজেপি। বৃহণমুম্বই পুরনিগম বা BMC নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৯টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। উদ্ধব সেনা–এমএনএস–এনসিপি (এসপি) জোট পেয়েছে ৭২টি আসন। একা লড়ে কংগ্রেস জিতেছে ২৪টি আর ৮টি ওয়ার্ড দখল করে জোর চমক দিয়েছে এআইএমআইএম।
বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি–শিবসেনা জোটের জয় এশিয়ার সবচেয়ে ধনী পুরসভায় ঠাকরে পরিবারের দীর্ঘদিনের একক দখল-রাজের অবসান ঘটাল। ২০১৭ সালে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বেই বিজেপি ৮২ আসন জিতেছিল। এবার সেই রেকর্ড ছাপিয়ে ২২৭টির মধ্যে ৮৯টি ওয়ার্ড জিতেছে বিজেপি। মুম্বইয়ে তাদের শরিক একনাথ শিন্ডে শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি আসন। ফলে জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ১১৮। যা ম্যাজিক ফিগার ১১৪-র চেয়ে বেশি। ওদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা পেয়েছে ৬৫টি আসন, যা ২০১৭ সালের ৮৪ আসন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
হিন্দুত্ব বনাম মারাঠি পরিচয়
এবার বিএমসি নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে হিন্দুত্ব বনাম মারাঠি পরিচয়। একদিকে মারাঠি গর্ব, অন্যদিকে বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতি। ২০ বছর পর এবার পুরভোটের আগে হাত মেলান ঠাকরে ব্রাদার্স। মারাঠা গর্বের জন্য হাত মেলান উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে। ঠাকরে শিবির দাবি করে যে মারাঠি ও মুম্বইবাসীদের অস্তিত্ব, ভাষা, জীবিকা ও পরিচয়ের ওপর বড়সড় হুমকি রয়েছে। ফড়নবিস এই ‘মুম্বইয়ের প্রতি হুমকি’ তত্ত্বকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন। বলেন, মারাঠি গর্ব নিয়ে কোনও আপোষ হবে না। বরং জোর দেন হিন্দুত্বের উপর।
ফল প্রকাশের পর দেখা যায় হালে পানি পায়নি রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নীতেশ রানে বলেন, মুম্বই পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি–শিবসেনার জোরদার ফল এটাই প্রমাণ করেছে হিন্দুত্বের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন রয়েছে। হিন্দিতে তিনি লেখেন, “জো হিন্দু কি বাত করেগা, ওহ মহারাষ্ট্র পে রাজ করেগা।” এখন ভোটে জিতে বিজেপির পাখির চোখে মুম্বইয়ের মেয়র পদ।
(Feed Source: zeenews.com)
