জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদী (PM Modi Govt) সরকারের অধীনে বিগত ১০ বছরে ভারতীয় রেলে (Indian Railways) বিরাট বদল এসেছে। এই সেক্টরের চেহারাই বদলে দিয়েছে। আগে এক্সপ্রেস গতির ট্রেন বলতে ছিল শুধুই রাজধানী-শতাব্দী-দুরন্ত। বিগত দশকে জুড়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat Express)। ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির নকশায় সেমি-হাই-স্পিড, স্ব-চালিত ট্রেন পরিষেবা সাড়া ফেলে দিয়েছে। বন্দে ভারত তার আধুনিক ডিজাইন এবং যাত্রী-কেন্দ্রিক বৈশিষ্ট্যের সৌজন্য এই নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রসারিত হয়েছে। এবার রেল ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বন্দে ভারত সম্প্রসারণের নীলনকশা তৈরি করে ফেলেছে…
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
ভারতীয় রেল তার নেটওয়ার্ক জুড়ে বন্দে ভারত ট্রেনসেটের ব্যাপক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। দেশের প্রথম দেশীয় ভাবে ডিজাইনড এই সেমি-হাই-স্পিড ট্রেনসেটটি শহরগুলির মধ্যে সংযোগ উন্নত করতে এবং ভ্রমণের সময় কমাতেই তৈরি। বর্তমানে দেশে ১৬৪টি বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে।
বন্দে ভারতের বর্ষা
২০৩০ সালের মধ্যে বন্দে ভারত ৮০০ ট্রেনের বহর হবে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ৪৫০০ ট্রেনে সম্প্রসারিত করারই বিরাট পরিকল্পনা রেলের। রেল মন্ত্রক বলেছে, ‘আগামী দশকগুলিতে ভারতের যাত্রী রেল আধুনিকীকরণের এক প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বন্দে ভারতকেf কল্পনা করা হয়েছে। ভারতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ২০৪৭ সালের মধ্যে বন্দে ভারত ট্রেনের বহরকে প্রায় ৪৫০০টি ট্রেনসেটে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মধ্যমেয়াদে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং উৎপাদন ক্ষমতার সাপেক্ষে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০০ বন্দে ভারত ট্রেনসেট পরিচালনার মাধ্যমে পরিষেবা সম্প্রসারণের উপর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।‘
বন্দে ভারতের মেনু
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকেই বন্দে ভারতে যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করার জন্য নির্বাচিত বন্দে ভারত ট্রেনগুলিতে আঞ্চলিক খাবারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের মেনুতে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক বিশেষত্ব রয়েছে। যার মধ্যে আছে মহারাষ্ট্রের কান্দা পোহা ও মাসালা উপমা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কোডি কুরা, গুজরাটের মেথি ঠেপলা, ওড়িশার আলু ফুলকপি এবং বাংলার কষা পনীর ও মুরগির ঝোল। এছাড়াও রয়েছে দক্ষিণের সুস্বাদু খাবার যেমন আপ্পাম ও পালাদা পায়েসাম-সহ কেরলের খাবার, এবং বিহারের চম্পারণ পনীর ও চিকেন।
বন্দে ভারত ট্রেনের বৈশিষ্ট্য
সেমি-পার্মানেন্ট ঝাঁকুনি-মুক্ত কাপলার এবং উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম উন্নত ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্যে অবদান রাখে, অন্যদিকে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম পরিচালনার সময় শক্তি দক্ষতা বাড়ায়।
স্বদেশী প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেন সংঘর্ষ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (কবচ)-এর ব্যবস্থা।
কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় প্লাগ ডোর এবং সম্পূর্ণ সিল করা প্রশস্ত করিডোর।
স্বদেশী প্রযুক্তিতে তৈরি ইউভি-সি ল্যাম্প-ভিত্তিক জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা-সহ আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
সমস্ত কোচে সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি অ্যালার্ম পুশ বাটন এবং যাত্রী-কর্মীদের মধ্যে কথা বলার জন্য টক-ব্যাক ইউনিট।
রিমোট মনিটরিং-সহ কোচ কন্ডিশন মনিটরিং সিস্টেম (সিসিএমএস) ডিসপ্লে।
ট্রেনের উভয় প্রান্তের ড্রাইভিং কোচে বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং দিব্যাঙ্গজন-বান্ধব শৌচাগার।
জিপিএস-ভিত্তিক যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা, আর্গোনমিক ভাবে ডিজাইন করা আসন এবং উন্নত ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্য বন্দে ভারত ট্রেনে সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করে তোলে।
(Feed Source: zeenews.com)
