জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলকানের নস্ট্রাডামাস হিসেবে পরিচিত অন্ধ রহস্যময়ী নারী বাবা ভাঙ্গা তাঁর অলৌকিক ও নির্ভুল ভবিষ্যৎবাণীর জন্য বিশ্বখ্যাত। বলা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ৯/১১-এর জঙ্গি হামলা এবং ২০০৪ সালের সুনামির মতো বড় ঘটনাগুলো তিনি আগেই অনুমান করতে পেরেছিলেন। বহু বছর আগে তাঁর মৃত্যু হলেও আধুনিক প্রযুক্তির উত্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর করা মন্তব্যগুলো আজও মানুষের মনে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করে, যা অনেককেই অবাক করে দেয়।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী, অত্যন্ত ছোট কিন্তু শক্তিশালী একটি যন্ত্র মানুষের একে অপরের প্রতি আচরণ এবং মানসিক অবস্থাকে বদলে দেবে। তাঁর সময়ে এই কথাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, আজ তা পুরোপুরি সত্যি। বাবা ভাঙ্গা প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন যা অনেকেই জানেন না; তিনি জানিয়েছিলেন যে মানুষ দৈনন্দিন কাজের জন্য ছোট যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং এর ফলে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে যাবে।
বর্তমানে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ফোনের মতো ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত, যা এখন কাজ, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে স্ক্রিন টাইম বা ডিভাইসের ব্যবহারের সময় নাটকীয়ভাবে বাড়ছে, যা মানুষের আচরণ ও সুস্থতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বাবা ভাঙ্গা সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন যে, মানুষ এই ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলোর ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে যে তারা বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলো থেকে দূরে সরে যাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করলেও এর একটি অন্ধকার দিক আছে। শিশু এবং তরুণদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি খুব দ্রুত মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
ভারতের শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন (NCPCR) এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৩.৮০% শিশু ঘুমানোর আগে বিছানায় স্মার্টফোন ব্যবহার করে।
অসময়ে ফোন ব্যবহারের ফলে শিশুদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। প্রায় ৩৭.১৫% শিশু এই সমস্যায় ভুগছে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং মনোযোগের অভাবজনিত রোগ বাড়ছে। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা আগের মতো বাইরে খেলাধুলা বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
স্মার্টফোন ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দিলেও একই ছাদের নিচে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ সামাজিকভাবে অন্যদের সাথে যুক্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের আবেগীয় বন্ধন এবং পারিবারিক সম্পর্ককে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রশ্ন হল এসবই কি অনেক আগে বলে গিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা!
(Feed Source: zeenews.com)
