
সংরক্ষণবিরোধী গণ অভ্যুত্থান, তার জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন, মৌলবাদীদের উত্থান, সংখ্যালঘু নিপীড়ন– গত দেড় বছরে কম ওঠাপড়ার সাক্ষী থাকেনি বাংলাদেশ। সেই আবহেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে। আর সেই সঙ্গেই সমান্তরাল ভাবে গণভোট হবে বাংলাদেশে। গত ১২ এপ্রিল গণভোটে অংশ নিয়ে ইউনূসক সরকারের প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। (Muhammad Yunus)
সোমবার সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইউনূস। সেখানেই দেশের সাধারণ মানুষকে তাঁদের নীতিতে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানান। ইউনূস বলেন, “গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য জুলাই সনদ প্রণন করেছি। এর বাস্তবায়নে জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, তাতে অংশ নিন এবং সনদে সম্মতি জানান।”
ইউনূস আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছে মতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য সম্মতি নিতে হবে জনগণের। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। এক জন সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ভাবে কাজ করবে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়বে নারীদের। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। আরও সুরক্ষিত হবে আপনার মৌলিক অধিকার।”
শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে বলে জানিয়েছেন ইউনূস। তিনি বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে ইচ্ছে মতো ক্ষমা করতে পারবেন না রাষ্ট্রপতি। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। আপনাদের আহ্বান জানাই, গণভোটে অংশ নিন, রাষ্ট্রকে নিজেদের প্রত্যাশা মতো গড়ে তুলতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি এখন আপনাদের হাতেই। এতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।”
যে সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, সেই জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসের এক ‘অসাধারণ অর্জন’ বলেও উল্লেখ করেন ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, জুলাই-গণঅভ্যুত্থানই বাংলাদেশে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। ইতিমধ্য়েই বেশ কিছু সংস্কার ঘটিয়েছে তাঁর সরকার। আগামী দিনে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার ঘটাতে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্য-সহকারেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
