Car Accident: ১০০… ১২০… ১৪০ স্পিড, আরও স্পিড! বিকট শব্দ, মা বাঁচাওওও… মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে মৃত্যু ৪ টিনএজারের…

Car Accident: ১০০… ১২০… ১৪০ স্পিড, আরও স্পিড! বিকট শব্দ, মা বাঁচাওওও… মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে মৃত্যু ৪ টিনএজারের…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উল্লাসের রাত মুহূর্তের মধ্যে পালটে গেল ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে। গাড়ির মধ্যে গমগম করে বাজছে গান, পাশে স্ক্রিনে চলছিল ভিডিয়ো, গতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিমি। চালকের হাতে সিগারেট, পিছনের সিটে বসে থাকা বন্ধুরা দ্রুত গতিতে গাড়ি চলার ভিডিয়ো করতেই ব্যস্ত। গাড়ি চালাচ্ছিল ১৯ বছরের শের মোহাম্মদ। সে সিগারেট খাচ্ছিল, যেন কিছুই হতে পারে না—এমন ভাব। স্পিডোমিটারের কাঁটা ধীরে ধীরে উঠছিল… ১০০… ১২০… এমনকি ১৪০ কিলোমিটার গতিও ছুঁয়ে ফেলে।

আচমকাই ভয়ংকর সংঘর্ষ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি চিৎকার শোনা যায়, তারপর বিকট শব্দ, কাচ ভাঙার আওয়াজ, এবং সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। কিন্তু তখনও চলে যাচ্ছে ভিডিয়ো রেকর্ডিং।

ভিডিয়োটির ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুমড়ে মুচড়ে উলটে গেল গাড়িটি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক বন্ধু আশেপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে শোনা যায়। বলছে, ‘বাঁচাও ভাই… মা… বাঁচাও।’ আরও বলতে থাকে, ‘বাঁচাও, আমি ভেতরে আটকে গেছি, আমার শ্বাস নিতে পারছি না।’ ভিডিয়োটি প্রায় নয় মিনিটে শেষ হয়, তখনও সে সাহায্যের জন্য আতর্নাদ করে যাচ্ছিল। ঘটনাটি উদয়পুরের।

ভয়ংকর দুর্ঘটনায় গাড়ির মধ্যে থাকা চারজন টিনএজারের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে আবার তিনজন নাবালক। আর বাকি দুই জন এবং  অন্য গাড়ির চারজন আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা গিয়েছে, ছয় বন্ধু মিলে উদয়পুরে একটি ‘মেহফিল-ই-মিলাদ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর একসঙ্গে একটি গাড়িতে করে বের হয়েছিল। তারা পুরনো আমদাবাদ হাইওয়ের দিকে চা খেতে যাচ্ছিল। তাদের গাড়িটি গুজরাতের দিকে যাওয়া আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ওই গাড়ির চার বন্ধু—মোহাম্মদ আয়ান (১৭), আদিল কুরেশি (১৪), শের মোহাম্মদ (১৯) এবং গুলাম খাজা (১৭)—প্রাণ হারায়। আরও দুজন গুরুতর আহত হয়। অন্য গাড়ির চারজন আরোহীও আহত হন। পুলিস জানিয়েছে, আহত সকলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রায় নয় মিনিটের ভিডিয়োতে দেখা যায়, পেছনের সিটে বসে এক বন্ধু শের মোহাম্মদের গাড়ি চালানোর ভিডিয়ো রেকর্ড করছিল। গাড়ির স্টেরিওতে খুব জোরে একটি হরিয়ানভি গান এবং ভিডিয়ো চলছিল।

গাড়ির গতি যখন ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, তখনও ১৯ বছর বয়সী চালক সিগারেট খেতে খেতে গতি কমানোর কোনও চেষ্টা করেনি। ভিডিয়ো করা বন্ধু বলে, ‘হাত সরাও’, তারপর সে স্পিডোমিটারের দিকে ক্যামেরা ঘোরায়, যেখানে দেখা যায় কাঁটা ১২০ কিলোমিটার গতির চিহ্ন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আরেক বন্ধু বলে, গাড়ির গতি এখন ১৪০ কিলোমিটার, এবং চালককে ধীরে চালাতে বলে। আরও একজন বন্ধুও তাকে গতি কমাতে অনুরোধ করে। বন্ধুরা ভয় পেয়ে বলছিল, ‘ধীরে চালা। হাত সরা, স্পিড কমা।’ কিন্তু সে শোনেনি।

কিছু বেপরোয়া মুহূর্ত-আর তার মূল্য দিতে হল চারটি তরতাজা প্রাণ দিয়ে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

(Feed Source: zeenews.com)