
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএলে (IPL 2026) সই করিয়েও বিসিসিআইয়ের (BCCI) নির্দেশে কেকেআর (KKR) তাঁকে ছেড়ে দেয়। ভারত-বাংলাদেশের (IND vs BNG) চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান। আর এরপর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) একগুঁয়ে হয়ে গিয়েছে। বিসিবি-র একটাই দাবি- ভারতে বিশ্বকাপ বয়কট।
দফায় দফায় চিঠি
ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলি তারা শ্রীলঙ্কায় খেলবে। এই মর্মে আইসিসি-কে দফায় দফায় চিঠি লিখে অনুরোধও করেছে। এমনকী ২১ জানুয়ারি বুধবার, আইসিসি-র সঙ্গে বিসিবি-র বৈঠকও হয়। সেখানেও পদ্মাপারের দেশ তাদের দাবিতে অনড়। এই আবহে বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস (Litton Das) সাফ জানিয়ে দিলেন যে, খেলোয়াড়দের আঁধারে রেখেই তাঁদের দেশের বোর্ড একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। তাঁরা জানেনই না যে আদৌ বিশ্বকাপ খেলবেন কিনা!
বিশ্বকাপে অনিশ্চিত বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে লিটনের দল রংপুর রাইডার্সের বিদায়ের পর লিটন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জানতাম বিশ্বকাপে আমাদের গ্রুপ প্রতিপক্ষ কারা, বা আমরা কোন দেশে যাচ্ছি, তাহলে তাহলে ভালো হত। আপনারা দেখেছেন যে, আমরা স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও খেলোয়াড়ই জানে না যে, আমরা কোন দেশে যাচ্ছি বা কার বিপক্ষে খেলছি। আমার মতোই পুরো বাংলাদেশ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।’ সাংবাদিককে লিটন পাল্টা বলেন, ‘আপনি কি নিশ্চিত যে, আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছিই? বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও অনেক সময় আছে। আমরা যাব কি না, তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই।’
কোনও আলোচনাই হয়নি
ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনও আলোচনাও হয়নি! এমনটাই লিটন জানিয়েছেন। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল কিনা, উত্তরে তিনি বলেন: ‘না’। এরপর তিনি বলেন যে, তাঁদের সঙ্গে আদৌ পরামর্শ করা উচিত ছিল কিনা, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন। লিটনের সংযোজন, ‘আমি জানি না, তবে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। জীবনের অনেক কিছুই আদর্শ হয় না, কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনাকে সেগুলো মেনে নিতেই হয়। আমরা এতগুলি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি, পুরো বিপিএল খেলেছি, সেটা আদর্শ ছিল না। কিন্তু তারপরও আমাদের খেলতে হয়েছে। আমরা আর কী করতে পারি?’ ভারত, পাকিস্তান এবং আইসিসি-র মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যখনই এই দুটি দেশের কোনও একটি টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়, তখন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার কথা রয়েছে। এই কারণেই শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক হয়েছে। ফলে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, এবং তারা সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচগুলিও সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আবারও বলেছেন যে, জাতীয় দল কোনও পরিস্থিতিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। এবং তারা কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, ‘অতীতে এমন উদাহরণ রয়েছে যখন ভারত বলেছিল যে তারা পাকিস্তানে খেলতে যাবে না এবং আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরা যৌক্তিক কারণেই ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছি এবং আমাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।’ এই প্রতিক্রিয়া এমন খবরের পরপরই এসেছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে এই মেগা ইভেন্টে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং বাংলাদেশের উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
