BhojShala Kamal Maula Mosque Dispute: সরস্বতী পুজোর মন্ত্র মিশবে আজানের সুরে! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে একই জায়গায় নমাজ ও বসন্ত পঞ্চমীর উদযাপন…

BhojShala Kamal Maula Mosque Dispute: সরস্বতী পুজোর মন্ত্র মিশবে আজানের সুরে! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে একই জায়গায় নমাজ ও বসন্ত পঞ্চমীর উদযাপন…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত ভোজশালা মন্দির-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরে ( Bhojsala Kamal Maula Mosque in Madhya Pradesh’s Dhar district) ধর্মীয় উপাসনা নিয়ে এক দীর্ঘকালীন জট কাটালো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আগামী শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমী এবং জুম্মার নামাজ একই দিনে পড়ায় যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছিল, তাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে নজিরবিহীন ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বন করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ওই দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হিন্দুরা পূজা করতে পারবেন, তবে দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত নামাজের জন্য বিশেষ বিরতি ও পৃথক জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

একই আঙিনায় দুই উপাসনা: আদালতের রক্ষাকবচ

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ এই সংবেদনশীল মামলাটির শুনানি শেষ করে। আদালত সাফ জানিয়েছে, বসন্ত পঞ্চমীর পুজো এবং জুম্মার নামাজ—উভয়ই যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী:

পুজোর সময়: হিন্দুরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভোজশালা চত্বরে পূজা ও হোম করতে পারবেন।

নামাজের সময়: দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত মুসলিমরা নামাজ পাঠ করবেন।

পৃথক ব্যবস্থা: নামাজের জন্য একই চত্বরে একটি নির্দিষ্ট এবং পৃথক এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। এমনকি যাতায়াতের সুবিধার্থে নামাজের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বাহির পথ (ingress and egress) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরদারি: যারা নামাজ পড়তে আসবেন, তাঁদের নামের তালিকা আগেভাগেই জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।

বিচারপতিদের বেঞ্চ দুই সম্প্রদায়ের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় উভয় পক্ষকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা প্রদর্শন করতে হবে।”

ইতিহাস ও বিবাদের নেপথ্যে

মধ্যপ্রদেশের ধারের এই একাদশ শতাব্দীর স্মৃতিসৌধটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত। হিন্দুদের বিশ্বাস, এটি দেবী সরস্বতীর (বাগদেবী) মন্দির। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি কামাল মৌলা মসজিদ।

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল এএসআই-এর একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এখানে উপাসনা চলে আসছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার পূজা করার সুযোগ পান এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার নামাজ পড়ার অনুমতি পান। কিন্তু গোল বাধে যখন বসন্ত পঞ্চমী (যা হিন্দুদের সরস্বতী পূজার প্রধান তিথি) এবং শুক্রবার একই দিনে পড়ে যায়। ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’-এর পক্ষে আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন দাবি করেছিলেন, বসন্ত পঞ্চমীর বিশেষ দিনে হিন্দুদের সারাদিন পুজো করার নিরবচ্ছিন্ন অধিকার দেওয়া হোক।

আইনি লড়াই ও সার্ভে রিপোর্ট

মামলার শুনানিতে মুসলিম পক্ষের আইনজীবী সলমন খুরশিদ জানান, নামাজের জন্য নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা সময় দিলেই তাঁরা সন্তুষ্ট এবং পুজোয় বিঘ্ন ঘটানোর কোনও অভিপ্রায় তাঁদের নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এএসআই-এর তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাবে।

এর পাশাপাশি, ভোজশালা চত্বরে এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা (Scientific Survey) নিয়েও বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে হওয়া এই সমীক্ষার রিপোর্ট ইতিমধ্যে একটি সিলবন্দি খামে জমা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে:

১. হাইকোর্টকে ওই সিলবন্দি রিপোর্টটি অবিলম্বে খুলতে হবে।

২. রিপোর্টের কপি মামলার সব পক্ষকে দিতে হবে যাতে তারা তাদের আপত্তি বা মতামত জানাতে পারে।

৩. মামলাটি হাইকোর্টের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থিতাবস্থা ও ভবিষ্যৎ

আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই চত্বরের বর্তমান অবস্থায় কোনও পরিবর্তন (status quo) আনা যাবে না। অর্থাৎ, ২০০৩ সালের এএসআই নির্দেশিকাই আপাতত বহাল থাকছে, কেবল আগামী শুক্রবারের বিশেষ পরিস্থিতির জন্য এই সাময়িক সমন্বয় করা হয়েছে।

ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং আইনি যুক্তির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের এই ভারসাম্যমূলক রায়কে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন। এটি কেবল একটি আইনি নির্দেশ নয়, বরং বহুধর্মী ভারতে সহাবস্থানের একটি বার্তাও বটে। এখন দেখার, শুক্রবার ধারের এই ঐতিহাসিক চত্বরে প্রশাসনের নজরদারিতে কতটা শান্তিপূর্ণভাবে দুই ধর্মের আচার সম্পন্ন হয়।

(Feed Source: zeenews.com)