)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আশঙ্কা ছিল হয়তো আমাদের নীল গ্রহে আর ফিরতেই পারবেন না। আশঙ্কার সেই মেঘ কাটিয়ে শেষপর্য়ন্ত ফিরে আসেন সুনীতা উইলিয়ামস। টানা ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন মহাকাশে। নাসার কাজ করেছেন টানা ২৭ বছর। অবশেষে অবসর গ্রহণ করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর সুনীতা উইলিয়ামস। মঙ্গলবার নিজেই জানালেন সেই কথা।
উল্লেখ্য, সুনীতা উইলিয়ামস অবসর নিয়েছেন গত ২৭ ডিসেম্বর। উইলিয়ামসের শেষ মহাকাশ অভিযানটি মাত্র ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত থাকলেও তা দীর্ঘ ৯ মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল।
নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে তাঁর কাজ চাঁদে আর্টেমিস মিশন এবং মঙ্গলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্য আগামী প্রজন্মের কাছে বড় স্বপ্ন দেখার এবং অসাধ্যকে সাধন করার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আপনার প্রাপ্য অবসরের জন্য অভিনন্দন, এবং নাসা ও দেশের প্রতি আপনার সেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
#WATCH | Delhi: Indian-origin NASA astronaut Sunita Williams says, “One of the first things you do when you get to space is that we all want to look for our home, like our immediate home. I grew up in Massachusetts. My father’s from India. My mother’s from Slovenia. I’m obviously… pic.twitter.com/Cpywcngc7x
— ANI (@ANI) January 20, 2026
অবসরের কথা ঘোষণা করে সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, তিনবার মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য এক পরম সম্মানের বিষয়। নাসায় আমার এই ২৭ বছরের ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ, আর এটি সম্ভব হয়েছে মূলত আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সেখানকার মানুষ, প্রকৌশলবিদ্যা এবং বিজ্ঞান সত্যিই বিস্ময়কর; যা চাঁদ এবং মঙ্গলে পরবর্তী অভিযানের পথ খুলে দিয়েছে। আমি আশা করি, আমরা যে ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছি তা ভবিষ্যতের নভশ্চরদের কাজ সহজ করে দেবে। নাসা এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো যখন পরবর্তী এই ধাপগুলো নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি ভীষণ উত্তেজিত। নাসা কীভাবে নতুন ইতিহাস গড়ে,তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।
উল্লেখ্য, উইলিয়ামস মহাকাশে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন। নাসার নভোচারীদের তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্ বেশিদিন মহাকাশে কাটিয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই নভোচারী এবং তাঁর সহকর্মী বুচ উইলমোর যৌথভাবে একক মিশনে দীর্ঘতম সময় কাটানোর তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। তাঁরা নাসার ‘বোয়িং স্টারলাইনার’ এবং ‘স্পেস-এক্স ক্রু-৯’ মিশনে একটানা ২৮৬ দিন মহাকাশে কাটিয়েছিলেন।
মোট ৯ বার মহাকাশে পায়চারি বা স্পেসওয়াক করেছেন, যার মোট সময় ছিল ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। মহিলা হিসেবে মহাকাশে দীর্ঘতম সময় হাঁটার রেকর্ড তাঁরই দখলে।
মজার বিষয় হল, উইলিয়ামস মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়েছিলেন, যা বিশ্বের প্রথম কোনো ব্যক্তির মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানোর ঘটনা।
২০১২ সালে উইলিয়ামস কাজাখস্তানের বৈকোনুর কসমোড্রোম থেকে ১২৭ দিনের একটি মিশনে যোগ দেন। সেই অভিযানে তিনি মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেন। ওই মিশনের সময় স্টেশনের রেডিয়েটরের একটি ছিদ্র মেরামতের জন্য তিনি তিনবার স্পেসওয়াক বা মহাকাশে হেঁটেছিলেন।
উইলিয়ামসের বাবা গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরবর্তীকালে আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত বনি পান্ডিয়াকে বিয়ে করেন।
নাসা জানিয়েছে যে, তাঁর করা গবেষণা ও কাজগুলো ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে (আর্টেমিস মিশন) এবং মঙ্গলে যাওয়ার পথ অনেক সহজ করে দিয়েছে।
নাসায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি আমেরিকার নৌবাহিনীতে একজন পরীক্ষামূলক পাইলট হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানে তাঁর ৩০টি ভিন্ন ধরনের বিমানে ৩,০০০ ঘণ্টার বেশি ওড়ার অভিজ্ঞতা ছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
