Husband killed Wife: আমার হাতে মরেছে সুপ্রিয়া, কিন্তু ওকে খুন করিনি! শয়তান বিক্রান্তের আজব দাবিতে স্তম্ভিত কোর্ট…

Husband killed Wife: আমার হাতে মরেছে সুপ্রিয়া, কিন্তু ওকে খুন করিনি! শয়তান বিক্রান্তের আজব দাবিতে স্তম্ভিত কোর্ট…

Australia: ৪২ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিক্রান্ত ঠাকুর অস্ট্রেলিয়ায় আদালতে স্বীকার করেছেন যে তার স্ত্রীর মৃত্যু তার হাতেই হয়েছে, তবে তিনি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা নয়, বরং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।

২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ মার্কিন মুলুকে বাড়িতেই রহস্যমৃত্যু ভারতীয় মহিলার। পুলিস বাড়িতে ঢুকে দেখেন, নর্থফিল্ডের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ৩৬ বছরের সুপ্রিয়া ঠাকুর। তাঁকে বাঁচাতে সিপিআর (CPR) দেওয়া হয়। কিন্তু সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিস জানায়, গার্হস্থ্য হিংসার খবর পেয়ে তারা ঠাকুর বাড়িতে পৌঁছয়। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার।

সুপ্রিয়া মারা গেলেও ওই বাড়িতেই একেবারে অক্ষত অবস্থায় ছিলেন তাঁর স্বামী ৪২-এর বিক্রান্ত ঠাকুর। তাঁকে আটক করে পুলিস। তদন্তের অংশ হিসেবে, ঠাকুর দম্পতির মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। বিক্রান্ত ঠাকুর আদালতের দিন ২২ ডিসেম্বর, শুনানিটি ১৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। প্রসিকিউটররা আরও প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছেন, যার মধ্যে রয়েছে DNA বিশ্লেষণ এবং মৃতদেহের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।

দ্বিতীয়বার তিনি আদালতে জানিয়েছেন, তিনি নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছেন, তবে হত্যা মামলার দায় তিনি অস্বীকার করেছেন। ভিডিয়ো লিঙ্কের মাধ্যমে অ্যাডিলেড ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুর্ঘটনাজনিত হত্যার জন্য দায় স্বীকার করছি, কিন্তু পরিকল্পিত হত্যা আমি করিনি।’ এই বক্তব্য তার আইনজীবী জেমস মার্কাসের পরামর্শে আসে।

প্রসঙ্গত, যদিও পরিকল্পিত হত্যা এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু-দু’টিই গুরুতর অপরাধ, তবুও মূল পার্থক্য হল উদ্দেশ্য। পরিকল্পিত হত্যা তখন ঘটে যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করে, আর দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ঘটে অজান্তে, কোনও পরিস্থিতির কারণে।

কে এই সুপ্রিয়া ঠাকুর?

সুপ্রিয়া ঠাকুর নিজের ক্রাউড ফান্ডিং পেজে নিজের সম্বন্ধে লেখেন, ‘দয়ালু, সহানুভূতিশীল এবং অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসা মানুষ।’ তিনি একজন নিবন্ধিত নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পেজে লেখা আছে, ‘তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাঁর ছেলেকে মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে। এক রাতেই তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন সে এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি, যেখানে তাকে সবচেয়ে বেশি যত্ন নেওয়া মানুষটি আর নেই।’ এই পেজটি তার বন্ধু ও কমিউনিটি সদস্যরা গোপনে তৈরি করেছিলেন।

এখন সব চোখ এপ্রিলের দিকে। সেখানেই মামলাটি আবার আদালতে উঠবে, এবং বিক্রান্ত ঠাকুরকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সত্য কোন পথে দাঁড়াবে- তা জানতে অপেক্ষায় পুরো সমাজ।

(Feed Source: zeenews.com)