মার্কিন বনাম ভারত ট্যারিফ যুদ্ধের শক্তি-ভারসাম্য কম্বো, যা ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের জন্য প্রয়োজনীয়? তেহ তাক অধ্যায় 5

মার্কিন বনাম ভারত ট্যারিফ যুদ্ধের শক্তি-ভারসাম্য কম্বো, যা ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের জন্য প্রয়োজনীয়? তেহ তাক অধ্যায় 5

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের সামনে বারবার এই প্রশ্ন উঠছে – আমেরিকা কি ভারতের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি ইউরোপ? ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পরিবর্তন এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার মধ্যে নয়, ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল বোঝার মধ্যে। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নির্ণায়ক। ভারতের আইটি এবং পরিষেবা খাতের একটি বড় অংশ মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে আমেরিকা ভারতকে শক্তির বৈশ্বিক ভারসাম্যে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রোধে আমেরিকাকে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

যাইহোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক প্রায়ই তাদের সাথে সংযুক্ত চাপের সাথে আসে। রাশিয়া, ইরান বা ইউক্রেনের মতো ইস্যুতে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান আশা করছে আমেরিকা। এই প্রত্যাশা কখনও কখনও ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। অংশীদারিত্বের শর্ত সংযুক্ত করা মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ। ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভিন্ন প্রকৃতির। এই সম্পর্কটি আরও ধৈর্য, ​​ভারসাম্য এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে বলে মনে হয়। ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান আমেরিকার চেয়ে ইউরোপ বেশি সহজে গ্রহণ করেছিল। ইউরোপীয় দেশগুলি বিশ্বাস করে যে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিটি ইস্যুতে চুক্তির দাবি করে না, তবে বিশ্বাসের ভিত্তিতে।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইইউ জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ প্রযুক্তি, ডিজিটাল নিয়ম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য মান নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ব্রাসেলস আজ এমন সিদ্ধান্তের কেন্দ্র হয়ে উঠছে যা ভারতের মতো উদীয়মান দেশগুলির ভবিষ্যতকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এটাও ঠিক যে ইউরোপের সামরিক ও কৌশলগত শক্তি আমেরিকার মতো নয়। কিন্তু বৈশ্বিক নিয়ম-প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীল অংশীদারিত্বে এর ভূমিকা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

আসলে, আমেরিকা বা ইউরোপ ভাল কিনা ভারতের জন্য সঠিক প্রশ্ন নয়। আসল প্রশ্ন হল উভয়ের সাথে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য কিভাবে রাখা উচিত। আমেরিকা ভারতকে শক্তি, নিরাপত্তা এবং দ্রুত উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করে, যেখানে ইউরোপ আস্থা, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা প্রদান করে। উপসংহার পরিষ্কার। ভারত কোন এক মেরুর উপর নির্ভরশীল দেশ নয়। এর পররাষ্ট্রনীতির শক্তি নিহিত রয়েছে এর কৌশলগত স্বাধীনতার মধ্যে। আজকের বহুমুখী বিশ্বে ভারতের প্রয়োজন আমেরিকার শক্তি এবং ইউরোপের ভারসাম্য।

(Feed Source: prabhasakshi.com)