জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আমেরিকা, আসন্ন নির্বাচনে পাল্লা ভারী বলেই কি, ভারত কী করবে?

জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আমেরিকা, আসন্ন নির্বাচনে পাল্লা ভারী বলেই কি, ভারত কী করবে?
নয়াদিল্লি: শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন প্রায় বছর হতে চলল। সেই আবহেই বাংলাদেশে নতুন করে নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের উপর নির্বাচনী নিষোজ্ঞা চাপিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat-e-Islami)-র উত্থান ইতিমধ্যেই চোখে পড়তে শুরু করেছে। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে তারা বড় জয় পেতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন সমীক্ষায়। এই আবহে আমেরিকাও জামাতের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে আগ্রহী বলে খবর। (US-Bangladesh Relations)

বাংলাদেশে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে জামাত, যার অধিকাংশই হাসিনার আমলে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে, বদলেছে সরকারের মনোভাবও। বাংলাদেশ যে ‘ইসলামি’ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় গোপন বৈঠকে সেকথা স্বীকার করে নেন আমেরিকার এক কূটনীতিকও। আসন্ন নির্বাচনে জামাত যে ভাল ফল করতে চলেছে, সেই নিয়েও ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি, অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এবার দারুণ ফল করবে জামাত। সেই কথোপকথনের একটি রেকর্ড সামনে এসেছে। (Jamaat-e-Islami)

আমেরিকার The Washington Post ওই অডিও রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে, যাতে আমেরিকার ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, “আমরা চাই ওরা (জামাত) আমাদের বন্ধু হয়ে উঠুক।” জামাতের ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের তাঁদের কর্মসূচিতে যুক্ত করা যায় কি না, উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সেই মর্মে সহযোগিতাও চান। জামাতকে নিয়ে কট্টরপন্থী রাজনীতির যে অভিযোগ ওঠে, তাদের হাতে বাংলাদেশে ইসলামি শাসন কায়েম হবে বলে যে আশঙ্কা, তাকেও গুরুত্ব দিতে চাননি আমেরিকার ওই কূটনীতিক। বরং বলেন, “(এমন ঘটলে) পরদিনই ওদের উপর ১০০ শতাশ শুল্ক চাপানো হবে।”

বিষয়টি সামনে আসার পর ঢাকায় আমেরিকার দূবতাবাসের মুখপাত্র মনিকা এস জানান, রুটিন, অফ দ্য রেকর্ড সাংবাদিক বৈঠক ছিল। একাধিক রাজনৈতিক দলকে নিয়েই আলোচনা হয় সেখানে। বাংলাদেশের মানুষ যে দলকে নির্বাচিত করবেন, তাদের সঙ্গে যেমন কাজ করতে আগ্রহী আমেরিকা। একটির পরিবর্তে অন্য দলকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে নয় ওয়াশিংটন।

ইসলামি নেতা সৈয়দ আবুল আলা মউদুদি ১৯৪১ সালে কট্টরপন্থী সংগঠন জামাতের প্রতিষ্ঠা করেন। পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বিরোধী ছিল জামাত। তাঁর মত ছিল, এতে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় থাকবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জানাতের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের পক্ষ নেন, এমনকি নিজেদের আধা সামরিক বাহিনী গড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। 

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফেরেন হাসিনা। সেই সময় জামাতকে নিষিদ্ধ করে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন হাসিনা। ধরপাকড় শুরু হয় সর্বত্র, যাতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামাত। ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়। এর পর দেড় বছরও কাটেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে জামাত। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে তারা। সেই জামাতের সঙ্গেই সখ্য বজায় রাখতে চাইছে আমেরিকা। 

বাণিজ্যশুল্ক থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সম্প্রতি ভিন্ন খাতে বইতে শুরু করেছে। ফলে জামাতের প্রতি আমেরিকার এহেন নরম অবস্থান ভারতের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীকে জামাতের শাখাকে বেআইনি ঘোষণা করে দিল্লি। ২০২৪ সালেও সেই অবস্থানই বজায় রাখা হয়। তাই International Crisis Group-এর টমাস কিনের মতে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত নতুন করে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু BNP-র পরিবর্তে জামাত এলে মুশকিল। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই জামাত এবং বিজেপি-র মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হতে দেবে না, একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধা আসবে। আমেরিকার সঙ্গে জামাতের সখ্য গড়ে উঠলে, দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন তিনি। 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। ওই দিন আবার গণভোটও রয়েছে। জামাত এবং BNP-র মধ্যে জোর টক্কর চলছে এই মুহূর্তে। জামাত জানিয়েছে, BNP-র সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করেত অসুবিধা নেই তাদের।

(Feed Source: abplive.com)