)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেড় দশক কম সময় নয়। চাপা বস্তির মধ্যে পড়ে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা। তার কিছু অংশ খুলে বিক্রি করে দিয়েছে এলাকার মানুষজন। বাকী মূল অংশ পড়েছিল পুকুরপাড়ে। তার উপরেই চলছিল কাপড় কাচা। তার উপরেই লাফালাফি করত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। হঠাত্ করে বোঝা যায় সেটি আসলে বোমা। গোটা ঘটনা বাংলাদেশের কক্সবাজারের রামুর। এনিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিস সূত্রে খবর, কক্সবাজারের তচ্ছাখালী এলাকার একটি পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভারি পাইপের মতো জিনিস পড়ে ছিল। প্রথমদিকে কেউ সেটিকে গুরুত্ব দেয়নি। স্থানীয়রা মনে করতেন সেটি কোনও পুরনো লোহার জিনিস।
স্থানীয় বাসিন্দা মুমিনুল সাহেব বলেন, এত বছর ধরে মানুষ এখানে যাতায়াত করেছে। কাপড় ধুয়েছে। ভাগ্যভালো কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। অন্য অক বাসিন্দা বলেন, কখনও মনে হয়নি এটা বোমা। সামনে একা পাখার মতো অংশ ছিল। একটা শেকল আর থালার মতো অংশ ছিল। সেসব ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছি।
পুলিসের দাবি, ১০-১৫ বছর আগে পুকুর কাটানোর সময় এলাকার এক ব্য়ক্তি ওই লোহার মতো জিনিসটিকে জল থেকে তুলে পাড়ে রেখে দেন। তার উপরেই মানুষ কাজকর্ম করতে থাকেন। অনেকেই সেটির উপরে কাপড় কাচতেন।
কীভাবে বিষয়টি সামনে এল? এলাকার এক ইতিহাস গবেষক শিরূপন বড়ুয়া সোস্যাল মিডিয়ায় বোমার মতো দেখতে একটি বস্তুর ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, এই বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাপানি বোমা হতে পারে। এতে বিস্ফোরক রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরি। ওই পোস্টের পরই স্থানীয় একজন পুলিসকে জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিস। তাঁরা এলাকা ঘুরে দেখে খাবর দেন সেনাবাহিনীকে। পুলিসের দাবি, দেখার পর মনে হয় এটি কোনও বোমা। বাংলাদেশ সেনার বিশেষজ্ঞ জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জানা যায়, বোমাটির ওজন আনুমানিক ৩০০-৩২০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস প্রায় ১১৭ সেন্টিমিটার। বর্তমানে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত এলাকাবাসীকে ওই স্থান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
(Feed Source: zeenews.com)
