জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরে ভারত মাত্র ৪ দিনের লড়াইয়ে ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানের। পাক মুলুকের একাধিক শহরে তছনছ হয়েছিল তাদের সামরিক পরিকাঠামো। তার পরেই তারা সংঘর্ষ বিরোধী চুক্তি করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। মাঝখান থেকে ট্রাম্প দাবি করে বসেন তাঁর কথাতেই সংঘর্ষ বিরোধী চুক্তি করেছে ভারত ও পাকিস্তান। চাপে পড়ে যে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধ্য হয়েছে তা জানিয়েছে স্যুইস সংস্থা ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ়’। ওই সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময়ে আকাশ দখল নিয়ে নেয় ভারত। তার জেরেই ঘাত কাত করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
সুইজারল্যান্ডের ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারসপেক্টিভ স্টাডিজ’ (CHPM)-এর ওই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন সামরিক ইতিহাসবিদ অ্যাড্রিয়েন ফন্টানেলাজ। এতে ২০২৫ সালের ৭-১০ মে পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা ৮৮ ঘণ্টার বিমান যুদ্ধের অত্যন্ত বিস্তারিত এবং নিরপেক্ষ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত যুদ্ধের প্রথম রাতে ভারতের অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার খবর বড় করে দেখিয়েছিল। তবে সুইজারল্যান্ডের এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই একটি ঘটনা যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। আসলে ভারত সুপরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছিল। শেষপর্যন্ত নিজেদের শর্ত মেনেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল।
উল্লেখ্য, পহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্য়ু হয় ২৮ জনের। তার পরেই’অপারেশন সিঁদুর শুরু করা হয়। ভারতের দাবি ছিল, এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো জড়িত।
ওই হামার পাল্টা হিসেবে গত ৭ মে ভোরে ভারতীয় বিমানবাহিনী জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রধান কার্যালয় এবং বড় ক্যাম্পসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী আস্তানায় হামলা চালায়। বাহাওয়ালপুর এবং মুরিদকে-র মতো দুটি প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত করা হয়। হামলার পরবর্তী পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, সেখানকার একাধিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগের তুলনায় ভারতের এই আক্রমণ ছিল অনেক বেশি গভীর এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দিক থেকেও এক বিশাল পরিবর্তন।
অপারেশন সিঁদুরের প্রথম রাতে বিভিন্ন সেক্টরে ভারতের প্রায় ৬০টি এবং পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছিল। চিনের দেওয়া দূরপাল্লার ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রেডার ব্যবস্থার সাহায্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের অন্তত একটি রাফাল, একটি মিরাজ ২০০০ এবং আরও একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। এমনটাই দাবি করে পাকিস্তান। সুইজারল্যান্ডের ওই গবেষণায় এই পর্যায়টিকে ভারতের জন্য তথ্য ও প্রচারের লড়াইয়ে একটি “মারাত্মক কৌশলগত ধাক্কা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; কারণ এর ফলে ইসলামাবাদ যুদ্ধের শুরুতেই নিজেদের জয় দাবি করার এবং সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করার সুযোগ পেয়েছিল।
কিন্তু স্যুইস রিপোর্টের মূল যুক্তি হল, যুদ্ধের শুরুর ওই লড়াই পুরো অভিযানের ফলাফল নির্ধারণ করেত পারেনি। বরং এর ফলে ভারত দ্রুত এবং অনেক বেশি শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। পরের দিনগুলোতে ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করে এবং সুইজারল্যান্ডের বিশ্লেষকদের ভাষায়—শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার এক আদর্শ অভিযান শুরু করে। স্কাল্প-ইজি এবং ব্রহ্মোসের মতো ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন দিক থেকে সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়ে ভারতীয় বাহিনী ধাপে ধাপে পাকিস্তানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং রাডার নেটওয়ার্ক পুরোপুরি দুর্বল করে দেয়।
শত্রুর প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর, ভারত পাকিস্তানের প্রধান বিমানঘাঁটিগুলোতে এক সিরিজ “চমকপ্রদ” হামলা চালায়। নিখুঁত নিশানার গোলাবারুদ এবং দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে চালানো এই হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে, অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যার ফলে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় এবার পাকিস্তান তাদের বিমান শক্তির মূল কেন্দ্রে সরাসরি এবং বারবার আঘাতের সম্মুখীন হচ্ছিল।
স্যুইজারল্যান্ডের এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার সাফল্য। বিশেষ করে ভারতের ‘IACCCS’ নেটওয়ার্ক এবং সেনাবাহিনীর ‘আকাশতীর’ সিস্টেমের মধ্যে চমৎকার তালমিল এই যুদ্ধে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি আকাশ (Akash), বারাক-৮ এবং এস-৪০০ এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। এই সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা ছিল যুদ্ধের অন্যতম বড় “চমক”।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে-র মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। পাক বিমানঘাঁটিগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পাকিস্তান আর আকাশসীমায় ভারতের মোকাবিলা করার মতো অবস্থায় ছিল না। আকাশপথে কার্যত একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ভারত যুদ্ধের গতি ও পরিধি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সুইজারল্যান্ডের বিশ্লেষকদের মতে, ঠিক এই মূহূর্তেই ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি, এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ‘অপারেশন সিন্দুর’ ভারতের রণকৌশলে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নয়াদিল্লি এখন পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হবে না; বরং সেগুলোকে সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোরই অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে যারা এদের মদত দেয়। এর অর্থ হল, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার জবাবে ভারত আরও দ্রুত, ব্যাপক এবং শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(Feed Source: zeenews.com)
