Bangladeshi Hindu Killed: গ্যারাজের শাটারের নীচে তেলে ঢেলে আগুন, ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত হিন্দু যুবক

Bangladeshi Hindu Killed: গ্যারাজের শাটারের নীচে তেলে ঢেলে আগুন, ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত হিন্দু যুবক

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক খুনের ঘটনা যেন থামছেই না। দীপু চন্দ্র দাসের পর বাংলাদেশে আরও হামলা হয়েছে হিন্দুদের উপরে। এবার নরসিংদীতে চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩) নামে এক যুবককে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের পুলিস লাইন এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। চঞ্চল কাজ করতেন একটি গ্যারেজে। রাতে কে বা কেউ তার গ্য়ারেজে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেখানে জীবন্ত পুড়ে মারা যায় চঞ্চল। নিহতের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিসের বর্ণনায় উঠে এসেছে খুনের ভয়ংকর বর্ণনা। পুলিস জানিয়েছে, রোজকার মতো শুক্রবারও রাতের কাজ শেষে হোটেল থেকে খাবার খেয়ে এসে গ্যারেজের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা দোকানের শার্টারের নিচে তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভেতরে পেট্রল-মবিল থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে। এতেই দোকানের মধ্য়ে পুড়ে মৃত্যু হয় চঞ্চলের। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন দোকানের শার্টারের নীচে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় চঞ্চলকে ভর্তি করা হয় নরসিংদী সদর হাসপাতালে। সেখানকার রেসিডেন্সিয়াল ডাক্তার ডা গুলশানা কবীর জানান, এক ব্যক্তিকে সাংঘাতিক পোড়া অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের হাতে সেই দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদী থানার ওসি আল মামুন সংবাদমাধ্য়মে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করি। সেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিসের একাধিক টিম কাজ করছে।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি একেবারেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভির ফুটেজে অন্তত সেরকমই মনে করছে পুলিস। তবে ওই ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয়রা আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। দমকল আসে অনেক পরে। তারপর এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। গ্যারেজের ভেতর থেকে তারা চঞ্চলের পোড়া দেহ উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি দীর্ঘক্ষণ আগুনের ভেতর আটকে ছিলেন এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

চঞ্চলের বাড়ি কুমিল্লার লক্ষ্মীপুর। কাজের জন্য তিনি থাকতেন নরসিংদীতে। পরিবারের মেজ ছেলে হিসেবে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ দিশেহারা।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় হিন্দু নেতারা এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

(Feed Source: zeenews.com)