
ফেসবুক কর্ণধার, মার্ক জ়াকারবার্গের সংস্থা Meta-র হাতেই হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা রয়েছে। সরাসরি Meta-র বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। বলা হয়েছে, কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে Meta. হোয়াটসঅ্যাপের কোনও কথোপকথনই আসলে ‘প্রাইভেট’ নয়। Meta তার গ্রাহকদের সব মেসেজই পড়তে পারে। (WhatsApp Encryption)
হোয়াটসঅ্যাপের যাবতীয় কথোপকথন Encrypted বলে বরাবর দাবি করে আসছে Meta. অর্থাৎ যিনি মেসেজ পাঠাচ্ছেন এবং যাঁর উদ্দেশে বার্তা লিখছেন, তাঁরা ছাড়া অন্য কেউ সেই মেসেজ পড়তে পারবেন না। কিন্তু গোটাটাই লোক দেখানো, আসলে সব মেসেজই Meta পড়তে পারে, তারা আসলে ‘Spy’ বলে অভিযোগ উঠছে।
একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর তরফে Meta-র বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলা করেছে। তাদের দাবি, Meta শুধুমাত্র গ্রাহকের মেসেজ পড়তেই পারে না, তা মজুতও করতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে, সেই মতো তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। গোপনীয়তা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা, বাস্তবে প্রতিনিয়ত তা লঙ্ঘন করে চলেছে।
Meta যদিও অভিযোগ অস্বীকার করছে। তাদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ ‘encrypted’ নয় বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। প্রায় একদশক ধরে end-tp-end encryption-এর উপরই চলছে মেসেজিং অ্যাপটি। হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান উিল ক্যাথকার্ট লেখেন, ‘সম্পূর্ণ ভুয়ো দাবি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পড়তে পারে না কারণ Encryption Key গ্রাহকের ফোনেই মজুত রয়েছে। আমাদের হাতে নেই’।
WhatsApp is not secure. Even Signal is questionable.
Use 𝕏 Chat. https://t.co/MWXCOmkbTD
— Elon Musk (@elonmusk) January 27, 2026
যদিও বিষয়টি হালকা ভাবে নিচ্ছেন না কেউই। এমনকি মাইক্রোব্লগিং সাইট X-এর মালিক, ধনকুবের ইলন মাস্কও নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ নয়। Signal নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। X চ্যাট ব্যবহার করুন’।
You’d have to be braindead to believe WhatsApp is secure in 2026. When we analyzed how WhatsApp implemented its “encryption”, we found multiple attack vectors. https://t.co/BC1TWFAIlc
— Pavel Durov (@durov) January 26, 2026
Telegram-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও পাভেল দুরভও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লেখেন, ‘২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ মনে হলে, তা নির্বুদ্ধিতারই পরিচয়। হোয়াটসঅ্যাপ কী উপায়ে encyption কার্যকর করেছে, তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমরা একাধিক ফাঁক পেয়েছি’।
২০২৬ সালে হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ—এমনটা বিশ্বাস করতে হলে আপনাকে নির্বোধ হতে হবে। আমরা যখন বিশ্লেষণ করে দেখলাম হোয়াটসঅ্যাপ কীভাবে তার “এনক্রিপশন” প্রয়োগ করে, তখন আমরা একাধিক আক্রমণের পথ খুঁজে পেয়েছি’।
এই মুহূর্তে সান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি ঝুলছে। Meta Platform এবং হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ জমা পড়েছে সেখানে। একাদিক দেশ থেকে সংঘবদ্ধ ভাবে মামলাটি দায়ের হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা। এই মামলায় ‘হুইসলব্লোয়ার’-দের কথা উল্লেখ থাকলেও, তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। শুনানিতে কী হয়, এখন তা-ই দেখার।
(Feed Source: abplive.com)
