Sanitary Pad: এবার দেশের সব স্কুলে বিনামূল্যে মিলবে স্যানিটারি প্যাড! বৈপ্লবিক ‘সুপ্রিম’ রায়ে মেয়েদের স্বস্তি…

Sanitary Pad: এবার দেশের সব স্কুলে বিনামূল্যে মিলবে স্যানিটারি প্যাড! বৈপ্লবিক ‘সুপ্রিম’ রায়ে মেয়েদের স্বস্তি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ঋতুস্রাব নিয়ে আর লুকোচুরি নয়, শারীরবৃত্তিয় এই প্রক্রিয়ার জন্য আর কোনও অস্বস্তিও নয় ছাত্রীদের। এবার স্কুল থেকে দিয়ে হবে স্যানিটারি প্যাড। দেশের সব রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সব সরকারি বেসরিকারি স্কুল থেকে বিনামূল্যে দিতে হবে স্যানিটারি প্যাড। শুক্রবার এমনই নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চের মতে, একটি দেশ কতটা উন্নত,তা বিচার করা হয় সেই দেশের দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের সুরক্ষার মানের ওপর।  সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকদের যে ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার’ রয়েছে, তার মধ্যে এখন থেকে ‘সুস্থ ঋতুস্রাব বা সঠিক ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধির অধিকার’ও অন্তর্ভুক্ত হবে।

আদালতের তরফে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, যেসব স্কুলে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে সেখানে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য অবশ্যই আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দেশের সমস্ত রাজ্য সরকার,কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্র সরকারের অধীনে থাকা স্কুলের পাশাপাশি সব বেসরকারি স্কুলকেও এই নিয়ম মানতে হবে। কোনো স্কুল যদি এই নির্দেশ পালন না করে বা আলাদা শৌচাগার তৈরি না করে তবে সেই স্কুলের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।

শুধুমাত্র স্যানিটারি প্যাড দেওয়ার নির্দেশ দিয়েই আদালত ক্ষান্ত হয়নি, বরং আদালতের তরফে বলে দেওয়া হয়, স্কুলগুলি যে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করবে তা অবশ্যই পচনশীল হতে হবে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে না। শৌচাগারের খুব কাছেই যেন ছাত্রীরা সহজে এই প্যাড পায়, সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। ব্যবহৃত প্যাড ফেলার জন্য স্কুলের ভেতরেই স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক ডিসপোজাল বিনের ব্যবস্থা করতে হবে। এইসব নির্দেশ কার্যকর করতে কোনো রকম দেরি বা গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। বেসরকারি স্কুলের পাশাপাশি সরকারি স্কুলগুলো যদি এই ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারকেও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি পাদরিওয়ালা বলেন, এই নির্দেশ শুধু স্কুলগুলিকেই নয়, বরং তা শিক্ষকদের জন্যও। কারণ বহু শিক্ষক ছাত্রীদের সাহায্য করতে চান কিন্তু তা পারেন না কারণ স্কুলে সেই পরিকাঠামো নেই। আমরা বিপন্নদের পাশে কীভাবে দাঁড়াচ্ছি তারই নাম উন্নয়ণ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবকালীন সমস্যার সমাধান না হওয়া ছাত্রীদের শারীরিক স্বাধীনতার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সামর্থ্য না থাকা ছাত্রীদের শিক্ষালাভের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে তারা তাদের পুরুষ সহপাঠী বা সচ্ছল সহপাঠীদের মতো সমান মর্যাদা নিয়ে ক্লাসে আসতে পারে না। কোনো সন্দেহ নেই যে, স্কুল জীবনের শিক্ষায় এই ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল ওই ছাত্রীর ব্যক্তিগত উন্নতির ক্ষতি করে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

(Feed Source: zeenews.com)