
বুরকিনা ফাসোর জুন্টা বাহিনীর তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক দলগুলি যত ডালপালা মেলেছে, ততই অন্য়ায় বেড়েছে সমাজে। নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়েছে সামাজিক কাঠামো’। (Burkina Faso)
২০২২ সালে বুরকিনা ফাসোয় ক্ষমতা দখল করে জুন্টা বাহিনী। তার আগে পর্যন্ত সেখানে ১০০টির বেশি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল ছিল, যার মধ্যে ১৫টি দলের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে প্রতিনিধি স্বরূপ অধিষ্ঠিত ছিলেন। আগেই ওই রাজনৈতিক দলগুলির রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ভিতরে ভিতরে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এবার তাও নিষিদ্ধ হল।
জানা গিয়েছে, দেশে রাজনৈতিক দলগুলির স্থাপিত মূর্তি ভেঙে ফেলতে, তাদের অর্থনৈতিক বিধিনিয়ম, প্রস্তাব জমা পড়তে চলেছে। বিরোধী দলনেতা বলেও কোনও পদ আর থাকবে না দেশে। রাজনৈতিক দলগুলির সব সম্পত্তি সরকারি সম্পত্তি বলে ঘোষিত হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এমিলে জ়ারবো জানিয়েছেন, দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলার কথা শোনা যায় তাঁর মুখে।
বুরকিনা ফাসো এই মুহূর্তে সরকার চালাচ্ছে জুন্টাই। সরকারকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর নেতৃত্বেই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে দেশেষ পল হেনরি সানদাওগো দামিবার ন’মাসের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। জুন্টা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল বলে নির্বাসন থেকেও বার বার দাবি করে আসছিলেন দামিবা। চলতি মাসেই তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় দেশে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না বুরকিনা ফাসোর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলিও। এতে দেশ এগোবে না বলে মত তাদের। শুধু তাই নয়, জুন্টা বাহিনী ভিন্নমতের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের অবসান চায় বলে অভিযোগ উঠছে। ক্ষমতা দখল করার পর জুন্টা জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে সেখানে নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে জুন্টার শআসনকালের মেয়াদ আরও পাঁচ মাসের জন্য বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।
তবে দেশের নাগরিকদের একাংশের মধ্যে ইদানীং কালে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ইব্রাহিম। পশ্চিমি সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী ইব্রাহিমের প্রশংসা শোনা যায় তাঁদের মুখে।
(Feed Source: abplive.com)
