জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করছে মোদী সরকার। সেই বাজেটে বাংলার জন্য বড় কোনও ঘোষণা বা মোটা বরাদ্দ থাকে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিহার ভোটের আগে সেখানে বিপুল ৬০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দিক থেকে দেখতে গেলে ২০২৬ এ বাংলার বিধানসভা নির্বাচন এখন মোদী সরকারের পাখির চোখ। ফলে রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের বাজেট বক্তৃতায় বাংলার জন্য বড় কোনও ঘোষণা থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কিন্তু তার পরেও রয়েছে গোটা দেশের জন্য ভাবনা। শিল্প, রেল, কর্ম সংস্থান, ছোট মাঝারি শিল্পের কথা ভাবতে হবে সরকারকে।
এবারও বেতনভোগী করদাতা, মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মানুষ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের কেন্দ্রীয় বাজেটের বক্তৃতার দিকে তাকিয়ে থাকবেন আরও বেশি কর ছাড়ের আশায়। গত বছর অর্থমন্ত্রী নতুন আয়কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ২০২৬ সালের বাজেটে আয়করে বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য সরকারের হাতে আর্থিক সুযোগ খুব একটা নেই; তবে ভোগব্যয় বা কেনাকাটার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরনো ও নতুন কর কাঠামোয় স্টান্ডাড ডিডাকশন ভিন্ন। যারা পুরনো নিয়মে ট্যাক্স ফাইল করেন তারা ৫০,০০০ টাকা ছাড় পান। আর যারা নতুন নিয়ম ট্যাক্স ফাইল করেন তারা ৭৫,০০০ টাকা ছাড় পান। আশা করা হচ্ছে এই ছাড়া খানিকটা বাড়তে পারে।
খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি এবং রান্নার গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার যেন সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করে,পরোক্ষ কর কমিয়ে এবং রেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে এই বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ মানুষের তালিকার সবার উপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে মুক্তি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট এখন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, কারণ এর ওপর পরিবহন খরচ এবং সব জিনিসের দাম নির্ভর করে। সাধারণ যাত্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় দাবি হল পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানো হোক।
চিকিৎসা খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি অনেক পরিবারকেই ঋণের জালে ফেলে দিচ্ছে, তাই এই খাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একইভাবে, অভিভাবকরাও চাইছেন সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষার পরিকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষার জন্য সহজ শর্তে ঋণ।
যেসব লেনদেনে ইতিমধ্যে জিএসটি (GST) দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে টিডিএস বা টিসিএস মকুব করার প্রস্তাব শিল্পমহল দিয়েছে। কারণ,বর্তমানে অনেক ধরনের ট্যাক্স রেট এবং তথ্যের অমিলের কারণে ব্যবসায়ীদের নিয়মকানুন মেনে চলতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। যেহেতু জিএসটির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের ওপর কেন্দ্রীয়ভাবে কড়া নজর রাখা যায়, তাই একই তথ্য বারবার রিপোর্ট করার ঝামেলা কমানো সম্ভব।
তবে, টিডিএস এবং টিসিএস হলো সরকারের অগ্রিম কর সংগ্রহের এবং তথ্য জোগাড় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এগুলো পুরোপুরি তুলে দিলে সরকারের স্বল্পমেয়াদী আয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং নগদ অর্থের টান পড়তে পারে—বিশেষ করে যেসব ব্যবসায় লাভের হার কম বা যেখানে কর ফাঁকির প্রবণতা বেশি। তাই যেকোনো পরিবর্তন খুব ভেবেচিন্তে এবং বাছাইকৃতভাবে করা উচিত, যাতে ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ম সহজ হয় আবার সরকারের রাজস্ব আদায়েও কোনো ক্ষতি না হয়।
রবিরার সকাল ১১ টায় বাজেট বক্তৃতা শুরু করতে পারেন নির্মলা সীতারমন। লাইভ দেখা যাবে সংসদ টিভিতে।
একনজরে ২০২৬ সালের বাজেটে প্রত্যাশা
আয়কর
নতুন কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্ল্যাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেশ কম।
MSME
সহজে ঋণ পাওয়ার সুবিধা, ঋণের গ্যারান্টি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিষেবা পৌঁছানোর ওপর জোর।
স্বাস্থ্যসেবা
চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো, পিএলআই (PLI) প্রকল্পের প্রসার এবং গ্রামীণ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন।
কৃষি
এই খাতে বরাদ্দ বেড়ে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে; মূল লক্ষ্য হবে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং উন্নত গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা।
রিয়েল এস্টেট
স্ট্যাম্প ডিউটি বা রেজিস্ট্রেশন ফি-তে ছাড় এবং ‘সাশ্রয়ী আবাসন’-এর পরিধি আরও বাড়ানো।
AI ও ডিপ-টেক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরির জন্য বিশেষ আর্থিক উৎসাহ প্রদান।
গ্রিন এনার্জি
সৌরশক্তি উৎপাদন, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব।
প্রতিরক্ষা
দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরির জন্য মূলধনী বরাদ্দ বৃদ্ধি।
(Feed Source: zeenews.com)
