
রাজকোট: ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী শয্য়াশায়ী। সেই অবস্থায় মেয়েকে লাগাতার ধর্ষণ। কাঠগড়ায় গুজরাতের এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। জেরায় সে অপরাধ কবুল করেছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু মেয়েই নয়, ভাগ্নিকেও ওই ব্যক্তি লাগাতার ধর্ষণ করে আসছিল বলে অভিযোগ। গুজরাত থেকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সামনে এসেছে। (Girl Assaulted by Father)
গুজরাতের রাজকোট জেলার অন্তর্গত উপলেটার ঘটনা। সম্প্রতি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ১৯ বছরের এক তরুণী। মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে থানা অভিযোগ দায়ের করে মেয়েটির বাবা, যিনি প্রতিবন্ধী। সেই মর্মে শুরু হয় তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণীর খোঁজ মেলে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই গোটা মামলা উল্টে যায়। (Rajkot Assault Case)
পুলিশকে ওই তরুণী জানান, নাবালক বয়স থেকেই বাবার লালসার শিকার তিনি। চার বছর আগে তাঁর মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। আর সেই থেকেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালাতে শুরু করে বাবা। বিগত চার বছর ধরে সেই অত্যাচার সহ্য করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ওই তরুণী জানান, রাত হলেই বাবার অত্যাচার শুরু হতো। প্রথমে পর্ন চালিয়ে দেখত বাবা। এর পর টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দিত, যাতে চিৎকার, কান্না, প্রতিরোধ বাইরে থেকে শোনা না যায়। সেই অবস্থায় ওই ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করত। লাগাতার বাবার কাছ থেকে হুমকিও পেতেন বলে দাবি ওই তরুণীর।
নির্যাতিতার কাছ থেকে বয়ান পেয়ে অভিযুক্তকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে পুলিশ, তাতে সে অপরাধ কবুল করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে উপলেটা থানা। POCSO-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতারও করা হয় ওই ব্যক্তিকে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় জেল, সেফটি কিট, মোবাইল ফোন।
নির্যাতিতার পাশাপাশি, পরিবারের অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে। আর তাতেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য় উঠে আসে। অভিযুক্তের ১৭ বছর বয়সি ভাগ্নি জানায়, মামা তাকেও লাগাতার ধর্ষণ করে আসছে। কয়েক দিন বা মাস নয়, গত সাত বছর ধরে মামার লালসার শিকার সে। ঘটনাক্রম বুঝতে পেরে স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীরা। ওই কিশোরীর কাউন্সেলিং চলছে এই মুহূর্তে। সেই নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত। ফোর্থ স্টেজে পৌঁছে গিয়েছে ক্যান্সার। তাঁর অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা যাতে চালু থাকে, তার জন্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আর্জি জানিয়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের মধ্যে গুরুতর অপরাধ ঘটেছে। নাবালিকা মেয়েগুলি নিজের পরিবার, নিজের বাড়িতেই সুরক্ষিত ছিল না। এখনও জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলছে, যাকে সেই মতো ধারা যুক্ত করা যায়।
(Feed Source: abplive.com)
