)
মৌমিতা চক্রবর্তী: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশে। কিন্তু সেই নির্বাচনে নেই একসময়ে দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। হাসিনা ক্ষমতা থেকে উত্খাতের পরই তার দলকেও নিষিদ্ধ করেছে বর্তমান সরকার। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ সমর্থককে বাইরে রেখেই সাধারণ নির্বাচনে হতে চলেছে বাংলাদেশে। এমন নির্বাচনকে প্রহসন বলে তা বয়কট করার ডাক দিলেন হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক খুনে মামলা দিয়েছে ইউনূস সরকার। হাসিনার ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। এনিয়ে হাসিনাপুত্র জয় বলেন, আমাদের সরকার কোনও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। ওসব সন্ত্রাসবাদীরা করেছে। জেল থেকে সব বড় সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিয়েছে নয়া সরকার। এরা উগ্র মৌলবাদী। এরা জঙ্গি। ইউনুসের সরকার এদেরই মদতপুষ্ট। এরা মব জাস্টিসের নাম দেয়। মানুষকে মারাই এদের উদ্দেশ্য।
দেশ সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জয় বলেন, ভোটে ওরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। অনেক পুলিসকে হত্যা করেছে। আমদের অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যা করেছে। আমাদের সরকার প্রমিস করেছে সবরকম হত্যার ন্যায়বিচার করা হবে। জাতীয় পার্টির অফিস পোড়ানো হচ্ছে। এটা ওয়ান সাইডেড ভোট।
আওয়ামী লীগের অবর্তমানে বিএনপিই একমাত্র শক্তিশালী দলে। নির্বাচনে তাদের জয় নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিএনপি হয়ত ক্ষমতায় আসবে। ইএস অ্যাম্বেসি কেন তারেক রহমানকে এত মদত দিচ্ছে? তারেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। ইএস তো চাইলে তারেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত। নেয়নি। কেন? আমাদের সংবিধানে রেফারেন্ডামের জায়গা নেই। তারেকের বিএনপি এখন পুরো পাল্টি খেয়ে গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বলছে। কেন? কারণ আমেরিকা তাই চায়। তারেক রহমান আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার করেছেন। ইএস ও তাই চায়। অন্যদিকে রয়েছে জামাত। জামাত এই ইউনুস সরকারের মদতদাতা। অথচ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন ৭০ শতাংশ মানুষ। জামাত ভাবছে তারা ক্ষমতায় আসবে। পোষ্টাল ভোট নিয়ে কি হচ্ছে সবার কাছে ওপেন। জামাত ক্ষমতায় এলে কি হবে জানেন? জামাত প্রধান নারীবিরোধি কথা বলেছেন। শরিয়তি আইন প্রতিষ্ঠা করতে চান। লস্কর নেতারা ঢাকায় কথা বলছেন এখন। এটা ভয়ঙ্কর ভারতের জন্য। পাকিস্তান যা খুশি করার লাইসেন্স পাবে। এটা ভারতের জন্য চিন্তার। ভারতের নিরাপত্তার জন্য দুশ্চিন্তার।
ভারতের সাহায্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জয় বলেন, ভারত আমাদের সবসময় সাহায্য করছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে মানুষ আছে। তারা তাদের মন বদল করেনি । কিন্তু বাংলাদেশ কী পাবে? একদিকে পাপেট সরকার, না হলে শরীয়তি আইনের পক্ষে থাকা সরকার? আওয়ামী লীগ-এর সময় দেশ সবথেকে নিরাপদ ছিল। এটাই বাস্তবতা। আমি আবেদন করছি আপনারা এখনও যদি না কথা বলেন তাহলে বিপদ। কট্টরপন্থীদের আটকানোর এটাই আপনাদের সামনে শেষ সুযোগ।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জয় আরও বলেন, এটা একটা সাজানো নির্বাচন। এটা সিলেকশন হচ্ছে। জামাতের থেকে বেশি ভোট জাতীয় পার্টির। তাদের ওপরেও অত্যাচার হচ্ছে। এটা গায়ের জোরে করছে। পোষ্টাল ব্যালট দিয়ে ভোট সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।। আমি অনুরোধ করতে চাই, আপনারা কষ্ট আছেন। মব আক্রমণ করছে। এটার রেজাল্ট জানি আমরা। বিএনপি ক্ষমতায় এলেও শক্ত থাকবে না। কোনো দল ১৫০ এর বেশি আসন পাবে না। এমনটাই ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাইলে কেউ ভোট দিতে যাবেন না। এটা আমার অনুরোধ।। এই নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হবে না।
(Feed Source: zeenews.com)
