
অর্ণবাংশু নিয়োগী: আইপ্যাক মামলায় বড় আপডেট। সোমবার সব মামলার হলফনামা এসে জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সেটা পড়ে উত্তর দিতে সময় লাগবে বলে জানাল কেন্দ্র। এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছে কেন্দ্র। আগামী মঙ্গলবার অর্থাত্ ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি হবে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সময় চাওয়ায় মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল। শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে আবেদন জানান, শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য।
রাজ্যের হলফনামা:
উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারি আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেই হলফনামা দিয়ে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করে রাজ্য। হলফনামার কপি জি ২৪ ঘণ্টার হাতেও আসে। সেখানে দেখা যায়, রাজ্যের দাবি ‘২০২০ সালে কয়লার তদন্তের জন্য এফআইআর দায়ের হয়। আর ২০২৬ পর্যন্ত তদন্তে কী উঠে এসেছে তা দেখানোর মত কোনও নথি নেই। ইডি নিজেই অযৌক্তিক ও অজানা কারণে বিলম্ব করেছে।
আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগেই দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ তদন্ত পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান। কিছু নথিপত্রসহ ইডি ওই স্থান থেকে বেরিয়ে যেতে তাঁকে অনুমতি দেয়। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ইডির পক্ষ থেকে তখন কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। তদন্তের আড়ালে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চেষ্টা করার ক্ষেত্রে ইডি-র একটি ইতিহাস রয়েছে। সেই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের বা অন্যান্য আদালতের কয়েকটি নির্দেশ জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইডি-র সদিচ্ছার অভাব আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এই প্রচেষ্টায় যে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির মিথ্যা মামলা চাপানোর চেষ্টা করেছে।’ এমনকী রাজ্য আরও দাবি করে যে, ইডির তল্লাশি করার কোনও ক্ষমতা নেই এবং তল্লাশির আগে কোনও কার্যকর নোটিশ দেওয়া হয়নি। ইডি অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
প্রসঙ্গত, ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের দুটি অফিসে হানা দেয় ইডি। বাদ যায়নি লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িও, যা কয়লা চুরির মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্তের অংশ। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে কিছু ডকুমেন্টস ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। ইডি এই ঘটনাকে তদন্তে বাধা এবং প্রমাণ সরানোর অভিযোগ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানানো হয়। ইডির দাবি, মমতা পুলিসের সাহায্যে জোর করে ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছেন, যা পিএমএলএ আইন লঙ্ঘন।
রাজ্যের বিরুদ্ধে ইডির মামলা:
আইপ্যাক এবং ইডি সংঘাত একটি হেভিওয়েট মামলা। কারণ এখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় (সাংবিধানিক প্রতিবিধান সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার) মামলা দায়ের করে ইডি। রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
পালটা ইডির বিরুদ্ধে মামলা:
কলকাতা পুলিস পালটা ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। গত শুনানিতে কলকাতা পুলিসের পক্ষ থেকে আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি এফআইআরের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। পাশাপাশি বেঞ্চ মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, যে দুই এলাকায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানে এবং আশেপাশের এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। এই নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত সোমবার আদালতে হলফনামা জমা দেয়।
(Feed Source: zeenews.com)
