Imran Khan BIG NEWS: দু’চোখে গাঢ়, নিবিড় অন্ধকার! ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয় না, জেলে মৃত্যুপথযাত্রী ‘অন্ধ’ ইমরান খান…

Imran Khan BIG NEWS: দু’চোখে গাঢ়, নিবিড় অন্ধকার! ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয় না, জেলে মৃত্যুপথযাত্রী ‘অন্ধ’ ইমরান খান…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দলের দাবি, কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তোষাখানা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে থাকা ইমরান খানকে নিয়ে পিটিআই-এর এই অভিযোগ পাকিস্তান ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

কী এই ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’?

পিটিআই-এর প্রকাশিত মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (Central Retinal Vein Occlusion বা CRVO) নামক এক গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি এমন এক অবস্থা যেখানে চোখের রেটিনার রক্তবাহী শিরায় ব্লকেজ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এর ফলে রেটিনা থেকে রক্ত স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না, যার জেরে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত ঝাপসা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সংকট। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে এর চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত চোখটি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পিটিআই-এর বিস্ফোরক অভিযোগ: পিটিআই মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি এবং দলের চেয়ারম্যান গোহর আলী খানের অভিযোগ, ইমরান খানকে কার্যত ‘নির্জন কারাবাসে’ রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি:

চিকিৎসায় বাধা: আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক মাস ধরে ইমরান খানকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় ১০০ দিন ধরে আইনজীবীদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ইমরান খানের বোন উজমা খানম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তাঁর ভাইয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে।

মানসিক নির্যাতন: দলের একাংশের অভিযোগ, সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের নির্দেশে জেলবন্দি ইমরান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

সরকারের পালটা যুক্তি: পিটিআই-এর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সরকার ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তাঁর দাবি অনুযায়ী:

১. গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের পিমস (PIMS) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

২. সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ মিনিটের একটি বিশেষ চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

৩. পিমস হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ইমরানের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ আছেন।

৪. জেল কোড অনুযায়ী সকল কয়েদির মতো ইমরান খানকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

পাক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (PIMS) একদল সরকারি চিকিৎসক গত বুধবার আদিয়ালা কারাগারে গিয়েও তাঁকে পরীক্ষা করেছেন। তবে সেই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি পাঞ্জাব সরকার।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ২০০-র বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। পিটিআই-এর দাবি, এই সমস্ত মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইমরানকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দলের অভিযোগ, জেলের ভেতরে তাঁর শারীরিক সংকট নিয়ে সরকার ‘ছেলেখেলা’ করছে। আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও জেলখানার অস্বাস্থ্যকর ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থার মধ্যে তাঁকে আটকে রাখা আদতে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও চিকিৎসার অভাব নিয়ে সরব পিটিআই, অন্যদিকে জেল কোড মেনে সুচিকিৎসার দাবি করছে শাহবাজ শরিফ সরকার। যদি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো নিরপেক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় এই নেতার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবন—দুই-ই বড় ধরনের অন্ধকারের সম্মুখীন হতে পারে।

(Feed Source: zeenews.com)