‘রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না ভারত’, ট্রাম্পের দাবি নিয়ে কী বলল রাশিয়া ?

‘রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না ভারত’, ট্রাম্পের দাবি নিয়ে কী বলল রাশিয়া ?
নয়াদিল্লি : রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এই দাবি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া রাশিয়ার ? এনিয়ে চর্চা ছিলই। এবার এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল রাশিয়া। ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন বলছে, যে কোনও দেশের কাছ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত। এর সঙ্গে সঙ্গে ক্রেমলিনের বক্তব্য, শুধুমাত্র মস্কোই নয়াদিল্লিকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে না। ভারত বিভিন্ন জায়গা থেকে অপরিশোধিত তেল নেবে এতে নতুনত্ব কিছু নেই।

ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমিদানি করে গেছে। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সংক্রান্ত তুলে ধরা Kpler এমনই তথ্য তুলে ধরেছে। নয়াদিল্লি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রেতা, যা ভারতের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এই পরিস্থিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভবত ভেনিজুয়েলা থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল ক্রয় কিনতে সম্মত হয়েছে বলে আমেরিকা যে দাবি করেছে, তার জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা, অন্যান্য সকল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতোই খুব ভাল করে জানি যে রাশিয়া ভারতে তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের একমাত্র সরবরাহকারী নয়। ভারত সর্বদা অন্যান্য দেশ থেকে এই পণ্যগুলি কিনেছে। অতএব, আমরা এখানে নতুন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।” একদিন আগেই আবশ্য পেসকভ বলেছিলেন যে, রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে রাশিয়া কোনও বিবৃতি পায়নি।

এদিকে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে যে, হাইড্রোকার্বন বাণিজ্য নয়াদিল্লি এবং মস্কো উভয়ের জন্যই লাভজনক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা এখনও নিশ্চিত যে ভারতের রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন ক্রয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে। আমরা ভারতে আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করত, তার মধ্যে রাশিয়ার তেল ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর, যখন পশ্চিমের দেশগুলি মস্কোকে এড়িয়ে চলতে শুরু করল, তখন নয়াদিল্লি – বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক – রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ছাড়ের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে উঠল।

(Feed Source: abplive.com)