Balochistan Massacre: ঘরে ঘরে তল্লাশি করে ১৯০ জনকে খুন, শুনশান বালোচিস্তান, কাউকে না ছাড়ার হুঙ্কার পাক সেনার

Balochistan Massacre: ঘরে ঘরে তল্লাশি করে ১৯০ জনকে খুন, শুনশান বালোচিস্তান, কাউকে না ছাড়ার হুঙ্কার পাক সেনার

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-আফগান সীমান্ত ঘোঁসা বালোচিন্তান প্রদেশে নরহত্যা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনা। জঙ্গি খোঁজার নাম করে বাচ্চা, বৃদ্ধ, মহিলা মিলিয়ে মোট ১৯০ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি সেনা। এদের মধ্যে ১৪৬ জন জঙ্গি। এমনটাই দাবি করছে পাকিস্তান সরকার। তার পরেও চলছে ঘরে ঘরে ঢুকে চিরুণি তল্লাশি।

ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর থেকেই সেখানে পাক পঞ্জাবীদের মাতব্বরির বিরোধিতা করে চলেছে বালোচরা। এলাকার খনিজ সম্পদ লুটে নিয়ে চলে যাচ্ছ সরকার অথচ এলাকার কোনও উন্নতি নেই। বাকী পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতি আলাদা। সেই সংস্কৃতির উপরেও আগ্রাসন চালিয়েছে পাকিস্তান। পাল্টচা প্রতিরোধ করে চলেছে বালোচরা। সম্প্রতি বালোচিস্তানে ব্যাংক, জেল, থানা ও সেনা চাউনিতে হামলা চালায় বালোচ বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ৩১ সাধারণ নাগরিক ও ১৭ জন সেনা। এর পরই বালোচিস্তানে সেনা পাঠায় সরকার। তার পরেই শুরু হয়েছে খুঁজে খুঁজে খুন করা। বালোচ বিদ্রোহীরা বলছে, কাউকেই ছাড়ছে না পাক সেনা।

গত দুই দিন ধরে ওই প্রদেশ জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। কেউ বাড়ি থেকে বের হলে সে যে আর ফিরবে তার কোনও গ্যারান্টি নেই। এমনটাই বলছেন বহু মানুষ। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা ওই প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা—যা সাধারণত বেশ জনাকীর্ণ থাকে—আজ একদম নিঝুম। রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জনশূন্য, আর মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

আফগানিস্তান-ইরান সীমান্তে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে এই গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বিদেশি নাগরিক এবং পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলের মানুষজনও তাদের হামলার শিকার হন।

আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু সবথেকে দরিদ্র প্রদেশ হল বালোচিস্তান। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—সবদিক থেকেই এই প্রদেশটি দেশের বাকি অংশ থেকে অনেক পিছিয়ে।

বালোচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, যেসব জেলায় হামলা হয়েছিল, গত রবিবার সেগুলো জঙ্গিমুক্ত করা হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের পিছু ছাড়ব না, এত সহজে পার পেতে দেব না। আমাদের রক্ত এত সস্তা নয়। আমরা তাদের আস্তানা পর্যন্ত ধাওয়া করব।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবথেকে সক্রিয় দল ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA) এএফপি-র কাছে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই দলটিকে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে যে, তারা বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলার মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটি , পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।

বুগতি দৃঢ়ভাবে আমরা এই যুদ্ধ এক হাজার বছর ধরে লড়ব… এই দেশ আমাদের… এবং এটি আমাদের মাতৃভূমি। সরকার এক সেকেন্ডের জন্যও আত্মসমর্পণ করবে না। এই হামলাগুলোতে ১৭ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং নারী ও শিশুসহ ৩১ জন সাধারণ মানুষ শহিদ হয়েছেন। ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসীরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দালবন্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, তুম্প, গোয়াদর এবং পাসনিতে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বুগতি জানান যে, গোয়াদরে সন্ত্রাসীরা খুজদার এলাকার ৫ জন নারী এবং ৩ জন শিশুকে হত্যা করেছে।

(Feed Source: zeenews.com)