ভারত তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা আরও জোরদার করল। পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ভারত, যা দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করল।
নয়াদিল্লি: পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত। ৬ ফেব্রুয়ারি ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৩–এর পরীক্ষা চালানো হয়। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সব ধরনের কার্যক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড–এর তত্ত্বাবধানে, যারা দেশের কৌশলগত পারমাণবিক সম্পদের দায়িত্বে রয়েছেন। অগ্নি-৩ একটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের মতে, এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি উন্নত সংস্করণগুলিরও পরীক্ষা চালানো হলেও, অগ্নি-৩ এখনও ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই মিসাইল একটি টু-স্টেজ ব্যবস্থা, যা সলিড ফুয়েল দ্বারা চালিত। প্রথম ধাপের জ্বালানি পোড়া শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।
গতবছর জুলাই মাসে অগ্নি-১, পৃথ্বী-২ এবং আকাশ প্রাইম এই তিন ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে ভারত। চাঁদিপুর থেকে পৃথ্বী-২ ও অগ্নি-১-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে পৃথ্বী-২ এবং অগ্নি-১ ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। দু’টিই ছোট দূরত্বের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং পরীক্ষাগুলি পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে। লাদাখের প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে আকাশ প্রাইম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে ভারতেই তৈরি করেছে DRDO এবং এটি আকাশ রেজিমেন্টের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটে যুক্ত করা হবে।
(Feed Source: news18.com)