Gen Z: ভয়ংকর দুঃসময় ‘Gen Z’র! তারা হারিয়ে ফেলছে মানবসভ্যতার অমূল্য এক স্কিল! হাড়হিম বিপর্যয়ের মুখে সারা পৃথিবীই, ৪০% আর…

Gen Z: ভয়ংকর দুঃসময় ‘Gen Z’র! তারা হারিয়ে ফেলছে মানবসভ্যতার অমূল্য এক স্কিল! হাড়হিম বিপর্যয়ের মুখে সারা পৃথিবীই, ৪০% আর…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আজকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি স্মার্টফোন, স্মার্টবোর্ড, ল্যাপটপ, ডেস্কটপে পরিপূর্ণ। কিন্তু এর মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন এক দক্ষতা (losing 5500 year’s skill)। দৈনন্দিন জীবন থেকে নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সেই স্কিল। ইউরোপ, আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকেরা সতর্ক করছেন, হালের অনেক কিশোর-কিশোরীই সাদা কাগজের উপর পেন ধরে হাতে কোনও কিছু লিখতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। আর তাই তারা যে কোনও ভাবে হোক এটা পুরোপুরি এড়িয়ে চলছে। নতুন গবেষণা বলছে, আর এই ভাবেই হাজার বছরের পুরনো একটি দক্ষতা (cognitive development and personal connections) হারিয়ে যাচ্ছে।

কিউনিফর্ম লিপি থেকে মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি

মাটির ট্যাবলেট থেকে টাচস্ক্রিন– প্রায় ৫৫০০ বছরের ইতিহাস। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তার জ্ঞান, তার তথ্য, তার গল্পের চিহ্ন রেখেছে। আর সেটা করতে গিয়ে তারা হাতের লেখাকেই ব্যবহার করে এসেছে। প্রাচীন কিউনিফর্ম লিপি থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি বা স্কুলের নোটবুক– সবেতেই হাতের অক্ষরই ছিল প্রাচীন মানুষের অবলম্বন।

কিন্তু বদলে গেল

কিন্তু বদলে গেল সেই ঐতিহ্য। বদলে গেল জেন জি-র হাতে। ডিজিটাল প্রযুক্তিই এই রুটিনকে বদলে দিল। মেসেজিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বর্তমান প্রজন্ম টাইপ করতেই বেশি অভ্যস্ত। জেন-জি (যাদের জন্ম ১৯৯০-এর দশকের শেষ থেকে ২০১০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত)-র কাছে পেন এখন একটি টুল মাত্র। তার যে বিশেষ কোনও কার্যকারিতা আছে, তা তারা ভুলে গিয়েছে।

৪০%-ই ব্যর্থ

নরওয়ের স্টাভাঞ্জার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, জেন-জি-র প্রায় ৪০%-ই হাতে লিখে যোগাযোগ করার সক্ষমতা হারাচ্ছে। এখানে ‘সক্ষমতা’ বলতে দ্রুত ও স্পষ্টভাবে নিজের চিন্তাগুলি কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তোলাকে বোঝানো হয়েছে।

কোণঠাসা কলম

কীবোর্ডের ঠেলায় পেন এখন কোণঠাসা। বিভিন্ন দেশের অধ্যাপকরা লক্ষ্য করছেন, শিক্ষার্থীদের যখন হাতে লিখতে বলা হয়, তারা থমকে যায়। বেশিক্ষণ লিখতে বললে তাদের হাত ব্যথা হয়। অনেকের আবার হাতের লেখা এত খারাপ যে, তা পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষকের মতে, প্রথম বর্ষের বহু শিক্ষার্থীই এখন খাতাকলম ছাড়াই ক্যাম্পাসে আসে। অধ্যাপকেরা খেয়াল করেছেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা বড় বাক্য এড়িয়ে যায়, এলোমেলোভাবে লেখে, নোট নেওয়ার জন্য ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল।

স্নায়ু, স্মৃতি, সত্তা

মস্তিষ্কের উপর আসলে হাতের লেখার গভীর প্রভাব। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, হাতে লেখা এবং টাইপ করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। হাতে লিখলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ বাড়ে। ভাষার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলি বেশি সক্রিয় হয়। টাইপ করার চেয়ে হাতে লেখা নোট মনে রাখা সহজ হয়, কারণ, লেখার সময় মস্তিষ্ক তথ্যগুলি আরও গভীরভাবে প্রসেস করে নিতে পারে। আর পড়ুয়ার পড়াশোনায় তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোনও ডিজিটাল ডিভাইস কোনও দিনই সেই জায়গাটা নিতে পারবে না, পারছে না।

হাতের লেখা হারিয়ে গিয়ে যা ঘটছে 

সবচেয়ে বেশি ছাপ পড়ছে শিক্ষায়। হাতে লেখা পরীক্ষায় খারাপ ফল হচ্ছে পড়ুয়াদের। তারা সৃজনধর্মী কোনও কিছু ভালো ভাবে লিখতে পারছে না। ছাপ পড়ছে কর্মক্ষেত্রেও। হাতে কোনো ফর্ম পূরণ বা মিটিংয়ে দ্রুত নোট নিতে সমস্যা হচ্ছে। ছাপ পড়ছে ব্যক্তিগত জীবনের পরিসরেও। যেমন, অনেকেই এখন আর ডায়েরি বা ব্যক্তিগত চিঠিপত্র লেখার কাজ করতে পারছেন না। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে অন্য জায়গায়– চিন্তাশক্তি কমে যাচ্ছে একালের মানুষে। তাঁদের স্মৃতিশক্তিআর আগের মতো থাকছে না। কোনও কিছুতেই তাঁরা মনোযোগ দিতে পারছেন না।

সমাধানের পথ

নিজের চিন্তাকে স্বাভাবিক গতিতে কলমের মাধ্যমে কাগজের বুকে ফুটিয়ে তোলা একটা বিশেষ সক্ষমতা। এবং সেই সক্ষমতাটা টিকিয়ে রাখা জরুরি। জরুরি কারণ, এটি কেবল একটি পুরনো অভ্যাসই নয়, এটি মানুষের চিন্তাশক্তি বিকাশের অনন্য ব্যায়াম।
বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করছেন, ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি হাতের লেখা বজায় রাখাও জেন জি বা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খুবই জরুরি। কীভাবে সেটা সম্ভব? এটা অনুশীলনের কিছু সহজ উপায় আছে। যেমন, প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লাইন করে কিছু লেখা, সেটা ডায়েরি লেখাও হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একটি মিটিং বা ক্লাসনোট হাতে লেখা। চিঠি লেখা বা নিজে হাতে কার্ড লিখে প্রিয়জনকে পাঠানো।

(Feed Source: zeenews.com)