হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য ঘিরে অ্যানি রাজা ও জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন।
‘রাজনৈতিক লড়াই প্রায়ই সুপ্রিম কোর্টে লড়া হয়’! হিমন্তর বন্দুকের ভিডিও নিয়ে মামলায় মন্তব্য প্রধান বিচারপতির
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক ভিডিওকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে মন্তব্য উঠে এল—রাজনৈতিক লড়াই প্রায়শই দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই এসে পড়ে। মঙ্গলবার মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হলে এই পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়াকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে এই মন্তব্য করা হয়।
বার অ্যান্ড বেঞ্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী নিজাম পাশা জানান, বর্তমানে একটি ভিডিও সামনে এসেছে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গও রয়েছে। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই মামলাটি উল্লেখ করা হয়। এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, নির্বাচন এলেই এই ধরনের রাজনৈতিক লড়াই প্রায়শই সুপ্রিম কোর্টে এসে পড়ে। বিষয়টি আদালত দেখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই মামলা দায়ের করেছেন সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজা। ২৭ জানুয়ারি দেওয়া এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যে বক্তব্য রাখেন, তার বিরুদ্ধেই এই আবেদন। অভিযোগ, ওই ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চার থেকে পাঁচ লক্ষ মিয়া ভোটারকে’ ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং ‘হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও বিজেপি সরাসরি মিয়াদের বিরুদ্ধে’। ‘মিয়া’ শব্দটি মুসলিমদের উদ্দেশে অবমাননাকর ভাবে ব্যবহৃত হয় বলেই অভিযোগ।
এর আগেও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দ। সংগঠনের বক্তব্য, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক ভাষণ একটি গুরুতর সাংবিধানিক অপরাধ। এই ধরনের বক্তব্য শুধু সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত করে না, সমাজের সার্বিক নৈতিক কাঠামো ও জনশৃঙ্খলাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জামিয়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জনপরিসরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি কোন প্রেক্ষিতে করা হচ্ছে, তা আদালতের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই মামলার শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
(Feed Source: news18.com)