)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘সংসদে? সত্যিই? এটা গত রাতে ঘটেছে!’ নিজেকে লোকসভায় ‘দেখে’ রীতিমতো চমকে গিয়েছেন অভিনেতা ও স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান বীর দাস (Vir Das)। ঘটনাচক্রে লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনায় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC MP Abhishek Banerjee)। আর অভিষেকের অস্ত্র ছিল বীরের ২০২১ সালের বহু চর্চিত ‘টু ইন্ডিয়া মোনোলগ’ বা দুই ভারত’ তত্ত্ব! বীর ভাবেননি যে, লোকসভায় তাঁর জনপ্রিয় করা শব্দবন্ধের জেরে রাজনৈতিক ঝড় উঠবে। তবে বিস্মিত বীর রাজনীতির ধারে কাছে না ঘেষেও অভিষেকের সংসদীয় বক্তব্যের ফুটেজ রসিকতার মোড়কে ব্যবহার করে তা ইনস্টায় বাজারজাত করে এসেছেন চর্চায়।
কী বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
গত মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ৪০ মিনিটের ভাষণে ‘দুই ভারত’ তত্ত্বে মাত করেছেন। অভিষেক বলেছেন যে, একদিকে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর কথা বলা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি সন্দেহে মারধরের কথাও জানান তিনি। অভিষেক বীরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘স্যার, ২০২১ সালের নভেম্বরে হাজার হাজার মাইল দূরে, কেনেডি সেন্টারে, ভারতের এক তরুণ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান বীর দাস, দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। অনেকে হেসেছিলেন, আবার কেউ কেউ রেগেও গিয়েছিলেন। কয়েকজনই থেমে শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি যা বলেছিলেন তা কমেডি ছিল না। ছিল এক সতর্কীকরণ, এক ভবিষ্যদ্বাণী, এক আয়না যা একটি জাতির জন্য তুলে ধরা হয়েছিল যা তার নিজস্ব দ্বন্দ্বের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ আমিও স্যার দুই ভারত থেকে এসেছি।’
কমেডিয়ান বীর দাস কী বললেন?
সংসদে আমি..? আহ হাহ, কোথায়? ওহ বাজে কথা। আমি দুঃখিত, এটা সংসদের ঘটছে? এটা করো না। আমার মনে আছে কিছু লোক হেসেছিল। (হাসি) আমি দুঃখিত, কিছু লোক যারা বিরক্ত হয়েছিল? কে? কে শুনতে থামল? তাও সংসদে ?’ অভিষেকের সতর্কীকরণ, ভবিষ্যদ্বাণী ও জাতির দর্পণের প্রসঙ্গে বীরের সংযোজন, ‘তখন প্রতিটি সংবাদপত্র এটাই বলেছিল যে, এটা কমেডি ছিল না। আমি দুঃখিত, আমিই সতর্কতা পেয়েছি। একটি নয় অনেক সতর্কতা। একটি ভবিষ্যদ্বাণী? সংসদে? না, এটা ভাঙা কাচের মতো মনে হয়েছিল। না, এটা অনেক দিন ধরে আমার বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। তখন তুমি কোথায় ছিলে?’ এর সঙ্গেই বীর তাঁর আসন্ন ওয়ার্ল্ড ট্যুর- ‘হে স্ট্রেঞ্জার-আ ট্যুর অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’- এর ঘোষণাও করেছেন।
বীরের পোস্টে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
অবশ্যই। সংসদে। জনগণের কণ্ঠস্বর গণসভায় না থাকলে আর কোথায় গর্জে উঠবে? সত্য কথা বলা উচিত, যদি তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়? ১৪০ কোটি ভারতীয়ের কাছে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের ছাড়া আর কে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে? যদি বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে এমন মর্মস্পর্শী রূপক দিয়ে না হয়, তাহলে কীভাবে বাস্তবতা প্রকাশ করা উচিত? গণতন্ত্র যখন কাজ করে তখন এটি এমনই দেখায়। আমরা এই ভারতে বিশ্বাস করি। আমরা এই ভারতের জন্য লড়াই করব। প্রতিদিন।’
‘টু ইন্ডিয়া’ ও বীর দাস
২০২১ সালে কেনেডি সেন্টারে বীরের পারফরম্যান্স বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছিল কিন্তু ভারতে বিস্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। দেশকে অপমান করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বীর ভারতের দুটি সংস্করণের তুলনা করেছিলেন- একটি প্রগতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বব্যাপী উদীয়মান, এবং অন্যটি যেখানে মহিলারা তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ভয় পান, যেখানে স্বাধীনতা সংকুচিত হয় এবং যেখানে সামাজিক বিভাজন বিদ্যমান। বীর বারবার বলেছিলেন, ‘আমি দুই ভারত থেকে এসেছি।’ বীর বলেছিলেন, ‘দিনে নারীদের পূজো হচ্ছে কিন্তু রাতে তারাই যৌন হেনস্থার মুখোমুখি হচ্ছে’! বীব কৃষক আন্দোলন, দূষণ, এবং মিডিয়া এবং রাজনৈতিক বিভাজনে নিয়েও বীর কথা বলেছিলেন। অভিনেত্রী এবং সাংসদ কঙ্গনা রানাউত সোশ্যাল মিডিয়ায় বীরের সমালোচনা করেছিলেন, তাঁর মনোলোগকে ‘নরম সন্ত্রাসবাদ’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। বীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। অনেকে তাঁকে বিদেশী দর্শকদের সামনে কেবল দেশের সমস্যাগুলি তুলে ধরার জন্যও অভিযুক্ত করেছিলেন। কেউ কেউ নির্বাচনী সমালোচনা সম্পর্কেও কথা বলেছিলেন। তবে, শশী থারুর-সহ কিছু রাজনীতিবিদ এবং জনসাধারণ বীরকে সমর্থন করেছিলেন। বীর ক্ষমা না চেয়ে বলেছিলেন যে তাঁর উপস্থাপনা দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসারই প্রতিফলন। বীর পরে স্পষ্ট করে বলেন যে, এই কাজটি ভারতের প্রতি ভালোবাসা সম্পর্কে ছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
