Tarique Rahman Bangladesh PM: মঙ্গলে শপথ ‘প্রধানমন্ত্রী’ তারেকের! সংসদ-স্পিকার নেই! শপথবাক্য পড়াবেন কে?

Tarique Rahman Bangladesh PM: মঙ্গলে শপথ ‘প্রধানমন্ত্রী’ তারেকের! সংসদ-স্পিকার নেই! শপথবাক্য পড়াবেন কে?

মৌমিতা চক্রবর্তী: সংসদ নেই, স্পিকার নেই। নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন? কে তুলে দেবেন তারেককে মসনদ? শোনা যাচ্ছে, মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন তারেক রহমান।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জয়শঙ্করের থাকার সম্ভাবনা।

নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে কোন দল? উত্তরটা সবারই জানা, যে দল বা জোট বিজয়ী হবে বা সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন পাবে তারাই গঠন করবে সরকার। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এটা স্পষ্ট যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দু যুগ পর ফের ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। তবে নতুন সরকার কীভাবে গঠন হবে বা তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বা নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা। শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়? উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়।

কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দু’দিনের মধ্যে, সেটা আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রকাশিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে।

সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রকাশিত হতে আরও কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে। ওদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গণমাধ্যকে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না। তাঁর মতে, এটা তিন দিনের মধ্যে হয়ে যেতে পারে। ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে, সব ঠিক থাকলে নির্বাচনের পরে ৬ দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এখন শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদও নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। তাহলে উপায়? এক্ষেত্রে আবারো যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে।

যেখানে বলা হয়েছে, “সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনেও ব্যক্তি যে কোনও কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”

অর্থাৎ অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে:

এক, রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন।

দুই, যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনও ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর যদি এটা না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”

শপথের পর ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন?

শপথের বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলেও আরও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন, অর্থাৎ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কে করাবেন? এখানে এই প্রক্রিয়াটি হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন। এক্ষেত্রে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে। এখন দলকে আমন্ত্রণ জানানো মানে দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

(Feed Source: zeenews.com)