)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নৌকাবিহীন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিল ধানের শিষ। দু’দশক পর ফের যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি, তখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষেই রায় দিলেন ওপারের বাঙালিরা। গণভোটে জিতল ‘হ্যাঁ’। পক্ষে ভোট পড়ল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯, আর বিপক্ষে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। সবমিলিয়ে ভোট পড়ল ৬০.২৬ শতাংশ।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম নির্বাচন। সঙ্গে আবার গণভোটও। কীসের গণভোট? জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন আছে কিনা, সে প্রশ্নেই আলাদা ও ভিন্ন রংয়ের ব্যালটে ভোট দিলেন বাংলাদেশে নাগরিকরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে গণভোটেও অংশ নিলেন প্রবাসী-সহ দেশের চার শ্রেণির নাগরিকরা।
বাংলাদেশে গণ অভ্যত্থানের মাধ্য়মে ক্ষমতার পালাবদল। প্রবল বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে কার্যত বাধ্য হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫ সালের অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন মহম্মদ ইউনূস। এরপর ২০২৫ সালে আগস্ট পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে এক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন তিনি। যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের।
সেই সনদে যেমন আওয়ামি লিগের সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তেমনি সমালোচনা করা হয়েছে বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেন মহম্মদ এরশাদের জমানারও। শুধু তাই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে ওই সনদে। জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধন করে ৮৪ দফা প্রশাসনিক সংস্থারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যারমধ্যে ৪৭ সংস্থাকের জন্য সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আর বাকিগুলি আইন করে বাস্তবায়নের কথা বলেছে ইউনূস সরকার।
বাংলাদেশে গণভোট
১) জুলাই সনদে যা বলা হয়েছে, সেভাবেই নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে।
২) আগামী দিনে বাংলাদেশের সংসদ হবে দুই কষ্ট বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলি প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য থাকবেন উচ্চকক্ষ তৈরি করা হবে। উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
৩) সংসদের মহিলা প্রতিনিধিদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এছাড়া জুলাই যে ৩০ প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলি এক্যমত হয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকার দায়বদ্ধ থাকবে।
৪) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথমে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকলেও, পরে কিন্তু সরাসরি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে নামে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ইউনূস। বলেন,‘যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে’।
(Feed Source: zeenews.com)
