)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিরাট জনাদেশ নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন খালেদা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান। তার পরেও আওয়ামী লীগের ভোট পার্সেন্টেজ নিয়ে কথা হচ্ছে। কোথায় গেল শেখ হাসিনার সমর্থকরা।
ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি বিষয় হল জাতীয় নির্বাচনে একটি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ধাক্কা খাবেন না। এই বিজেপি নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি নয়, বরং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। দলের প্রধান আন্দালিব রহমান পার্থ জয়ী হয়েছেন ভোলা-১ আসনে।
যে রংপুর জাতীয় পার্টির গড় সেখানে থেকেই উত্খাত হয়ে গিয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। তার জায়গা নিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, বিএনপির সঙ্গে আঁতাত না থাকলে অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে যেত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির। রংপুর বিভাগে নীলফামারী সদর আসন বাদ দিয়ে ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। কোনোটিতে পার্টি জিতেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক গাইবান্ধার দুটি আসনে ভোট করলেও একটিতে তৃতীয় হয়েছেন, আরেকটিতে জামানত হারান।
বাংলাদেশের ভোটে ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬ আসনে জয়ী হয়েছে। ভোলা -১ আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। ১১৫টি কেন্দ্রে পার্থ পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট।
কে এই আন্দালিব রহমান পার্থ?
আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত তরুণ মুখ। ২০০৮ সালে ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তৎকালীন সময়ে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর বাবা ছিলেন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিউর রহমান মঞ্জুর। তিনি একাধারে মন্ত্রী এবং ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আলাদা হয়ে নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গঠন করেন। ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর পার্থ এই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পার্থ ঢাকার ধানমণ্ডিতে বড় হয়েছেন। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনার (LLB) জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা নিয়ে বেশ কিছু বড় স্বপ্ন দেখিয়েছেন পার্থ। ভোলাকে একটি আধুনিক ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলা। ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণ এবং একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা। ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা। তরুণ এই নেতা কি পারবেন তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে বিজেপির অবস্থান শক্ত করতে? সেটি সময়ই বলে দেবে।
(Feed Source: zeenews.com)
