সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী জামাত, ভারতের জন্য উদ্বেগের ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী জামাত, ভারতের জন্য উদ্বেগের ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিজেন্দ্র সিংহ, মযূখ ঠাকুর চক্রবর্তী ও ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসে রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। সীমান্তে জামাতের জয় কি ভারতের জন্য উদ্বেগের ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা ?

কেউ কেউ হয়তো ভেবেছেন, বিভক্ত বাংলার হিন্দু-বাঙালি হয়তো স্বাধীনভাবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে, কিন্তু এ স্বপ্ন মরীচিকা মাত্র। বাঙালি হিন্দুর বুকের উপর হুকুমনামার পিস্তল ধরে মৃত্যু পরোয়ানা সই করে নেওয়া হচ্ছে অথচ হিন্দু বাংলা টুঁ শব্দটি করতে পারছে না। ১৯৪৭ সালে ‘জাগরণ’ পত্রিকায় শরৎচন্দ্র বসুর এই লেখায় ফুটে উঠেছিল বঙ্গভঙ্গের যন্ত্রণা। ঘরবাড়ি ছেড়ে, এক কাপড়ে পদ্মা পার। সেই পদ্মাপারেই এবার পরিবর্তন। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় BNP…। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে এগোবে নতুন সরকার? BNP চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “”বাংলাদেশ এবং এর জনগণের স্বার্থ আমাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করবে। দেশের স্বাধীনতাকামী গণতন্ত্রকামী মানুষ আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বিজয় এনে দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশ নীতির ব্যাপারে আমরা নিজেদের পরিষ্কার করেছি এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সবার আগে। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা আমাদের বিদেশ নীতি নির্ধারণ করব।””

হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জিগির উঠলেও, এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামাতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়েমুছে গেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর…সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। যা কি ভারতের জন্য সত্যিই উদ্বেগের ? ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) প্রণব ঘোষ বলেন, “বেড়া না দেওয়া অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। এর অধিকাংশটাই পশ্চিমবঙ্গের। নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার যে কোনও জমি নিতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি ভারতের জন্য আশঙ্কার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ কাকলি সেনগুপ্ত বলেন, “বর্ডার এরিয়াতে তারা অনেকটা সিট যেমন পেয়েছে, ভারতের জন্য দু’টোই উদ্বেগের বিষয়। তার কারণ, শেখ হাসিনার মতো ভারত-মুখী সরকার তো আর হবে না বাংলাদেশে। বিএনপি বা জামাত, যারাই ক্ষমতা আসত সেটা নিয়ে একটু চিন্তা ছিল।”

বিরোধীদেরও দাবি, এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মনে করি, একাত্তরের শক্তির খানিকটা জাগরণ ঘটেছে বলে, আরও জাগরণ ঘটত যদি আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। তাহলে এই জামাতিরা ১০টি আসনে পেত না।”

হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাছাকাছি আসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পদ্মাপারে বাড়তে থাকে কট্টরপন্থীদের দাপট। অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনে ইন্ধন ছিল ইসলামাবাদের। তারেক রহমানের হাত ধরে কি ফের ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

(Feed Source: abplive.com)