Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন ৮০ সংখ্যালঘু প্রার্থী, জয়ী হলেন কতজন!

Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন ৮০ সংখ্যালঘু প্রার্থী, জয়ী হলেন কতজন!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মায়ের পর পর এবার ছেলে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন খালেদা জিয়াপুত্র তারেক রহমান। সংসদের ২৯৭ আসনের মধ্যে তারেক রহমানের বিএমপি ও তার শরিক দলগুলি পেয়েছে মোট ২১২ আসন। বহু ঢক্কানিনাদ করে জামাত ও তার শরিক দলগুলি পেয়েছে ৭৭ আসন।  অন্যান্যরা পেয়েছে ৭ আসন। এখন প্রশ্ন, এতবড় নির্বাচনে হিন্দু-সহ কতজন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হলেন।

এবার বাংলাদেশের নির্বাচনে সব দল মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন মোট ৮০ প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। কমিউনিস্ট দলগুলি ১৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীকে দাঁড়ি করিয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল।  জামাতে ইসলামি পর্যন্ত ১ জন হিন্দুকে প্রথমবারের মতো প্রার্থী করেছিল।

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বাকীরা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ। বিএনপির মনোনয়নে জয়ী এই দুই হিন্দু প্রার্থী হলেন দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান ও শীর্ষ নেতৃত্বের সিনিয়র উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী।

মাগুরা ২ আসনে বিএনপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী। নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ ভোটে পেয়েছেন জামাতের প্রার্থী শুশতারশেদ বিল্লাহ। অন্যদিকে ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি হারিয়েছেন জামাত প্রার্থী শাহিনুর ইসলামকে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএনপির টিকিটে লড়াই করে হেরেছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, সোমনাথ দে।

নির্বাচনে বিজয়ী তৃতীয় সংখ্যালঘু প্রার্থী হলেন দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে নির্বাচিত মারমা গোষ্ঠীর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও বিএনপির সিনিয়র নেতা সাচিং প্রু। চতুর্থ সংখ্যালঘু প্রার্থী হিসেবে রাঙ্গামাটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন চাকমা নৃগোষ্ঠীর দীপেন দেওয়ান; তবে পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, কারণ অনেকে তাকে হিন্দু বলেও মনে করেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। তারা মোট ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ এবং ২০৯টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এবার ভোটে দলের ইতিহাসে সেরা ফল করেছে জামায়াত-ই-ইসলামী। দলটি ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট এবং ৬৮টি আসন পেয়েছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৩.০৫ শতাংশ।

বিএনপি এখনও তাদের মন্ত্রিসভা ঘোষণা না করলেও এতে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএনপি ৩২-৪২ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে অভিজ্ঞ প্রবীণ এবং নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় দেখা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই অনুষ্ঠানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন; সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর এই শপথ করানোর কথা থাকলেও তার পরিবর্তে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

(Feed Source: zeenews.com)