Suprme Court verdict on Pre-marital sex: বিয়ের আগেই শারীরিক মিলন হয়ে যাচ্ছে? কেন? বিবাহ-পূর্ব ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিস্ফোরক মন্তব্য…

Suprme Court verdict on Pre-marital sex: বিয়ের আগেই শারীরিক মিলন হয়ে যাচ্ছে? কেন? বিবাহ-পূর্ব ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিস্ফোরক মন্তব্য…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আধুনিক সমাজব্যবস্থা এবং লিভ-ইন রিলেশনশিপের যুগে দাঁড়িয়ে বিবাহ-পূর্ব শারীরিক সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশাল রায়। শীর্ষ আদালতের মতে, বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে একজন পুরুষ এবং একজন নারী আইনত এবং সামাজিকভাবে ‘অপরিচিত’ (Strangers) হিসেবেই গণ্য হন। তাই বিবাহের আগে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ পরবর্তীতে কোনো কারণে বিয়ে না হলে এর আইনি ও সামাজিক পরিণাম অত্যন্ত জটিল হতে পারে।

মামলার প্রেক্ষাপট

একটি ফৌজদারি মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। মামলাটি ছিল এক তরুণীর আনা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে যুবকটি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এই ধরনের মামলা বর্তমানে ভারতীয় আদালতগুলোতে প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, যা ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’ (Sex on the promise of marriage) হিসেবে পরিচিত।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: কেন এই সতর্কতা?

বিচারপতিদের বেঞ্চ শুনানির সময় বেশ কিছু গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রধান দিকগুলো হল:

১. অপরিচিতের তত্ত্ব: আদালত বলেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত অগ্নিসাক্ষী বা আইনিভাবে বিবাহের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নারী ও পুরুষ একে অপরের জন্য অপরিচিত। আবেগের বশবর্তী হয়ে বা কেবল প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে ঘনিষ্ঠ হওয়া অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২. সম্মতি ও প্রতারণার সূক্ষ্ম রেখা: শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে, তবেই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু যদি সম্পর্কের অবনতির কারণে বা সঙ্গত কোনো কারণে বিয়ে ভেঙে যায়, তবে আগের সমস্ত শারীরিক সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ বলা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. সামাজিক ও মানসিক অভিঘাত: আদালত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছে যে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সাথে সামাজিক সম্মান এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা জড়িত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতি অনেক সময় সামাজিকভাবে বেশি বিপর্যয় ডেকে আনে।

আইনি জটিলতা ও ৪৯৮এ ধারার অপব্যবহার রোধ

সুপ্রিম কোর্ট এর আগেও বিভিন্ন রায়ে জানিয়েছে যে, সম্মতিক্রমে তৈরি হওয়া শারীরিক সম্পর্ককে পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে দেগে দেওয়া সবসময় সঠিক নয়। বর্তমান পর্যবেক্ষণে আদালত তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আদালতের মতে, অন্ধ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠতা পরবর্তীতে কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং মানসিক অবসাদেরও কারণ হয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই ‘সতর্কবাণী’ মূলত যুবসমাজকে বাস্তববাদী করে তোলার একটি প্রয়াস। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর পারিবারিক অমিল বা অন্য কোনো কারণে বিয়ে সম্ভব হয় না। সেই সময় আগের ঘনিষ্ঠতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মামলা দায়ের করা হয়। শীর্ষ আদালত এই প্রবণতা রুখতে এবং সম্পর্কের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কড়া মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে, সমাজকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদালত কতটা হস্তক্ষেপ করবে তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ‘বিবাহের আগে দুজনে অপরিচিত’—এই নৈতিক অবস্থানটি আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক খুলে দিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কেবল একটি আইনি রায় নয়, বরং বদলে যাওয়া সামাজিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সতর্কবার্তা। ‘লিবার্টি’ বা স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে আইনি পরিণাম না ভেবেই কোনো পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া। বিবাহের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং নিজের আইনি সুরক্ষা—উভয় দিক বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমাতে এবং যুবক-যুবতীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করবে।

(Feed Source: zeenews.com)