)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসন ও বাবা ভাঙ্গার ‘ভয়ংকর’ ভবিষ্যদ্বাণী: বিপন্ন কর্মসংস্থান?
একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে এখন সবথেকে আলোচিত শব্দবন্ধ হল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। একদিকে বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা যখন মানুষকে মুগ্ধ করছে, অন্যদিকে তখন তৈরি হয়েছে এক গভীর সংশয়—তবে কি যন্ত্রই কেড়ে নেবে মানুষের রুটি-রুজি? গুগল (Google), আমাজন (Amazon) এবং মাইক্রোসফটের (Microsoft) মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া গণছাঁটাই এই আতঙ্ককে আরও উসকে দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশ্বখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga)। তাঁর কয়েক দশক আগের করা এক রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী যেন বর্তমান সময়ের এই সংকটের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
কে এই বাবা ভাঙ্গা এবং কেন তিনি প্রাসঙ্গিক?
বুলগেরিয়ার বাসিন্দা বাবা ভাঙ্গা, যাঁকে ‘বলকানের নস্ট্রাডামাস’ বলা হয়, ১৯৯৬ সালে প্রয়াত হলেও তাঁর করা অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণী আজও মানুষকে চমকে দেয়। ৯/১১-এর জঙ্গি হামলা, বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়া কিংবা ব্রেক্সিটের মতো ঘটনার সফল পূর্বাভাস তিনি দিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বের তাবড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে এবং সেই শূন্যস্থান এআই দিয়ে পূরণের চেষ্টা চলছে, তখন নেটিজেনরা খুঁজে পেয়েছেন বাবা ভাঙ্গার সেই পুরনো সতর্কবার্তা।
প্রযুক্তি বিশ্বে ছাঁটাইয়ের হিড়িক ও এআই-এর যোগসূত্র
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রযুক্তি খাতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এআই।
গুগল ও আমাজন: দুই সংস্থাই ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠন করছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে মানুষের বদলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী কাজ হারিয়েছেন।
মাইক্রোসফট: চ্যাটজিপিটি-র উদ্ভাবক ওপেনএআই-এর সাথে মাইক্রোসফটের বিশাল বিনিয়োগ এই বার্তাই দেয় যে, ভবিষ্যৎ এখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে।
এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া কেবল সাধারণ কর্মীদের নয়, বরং উচ্চশিক্ষিত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সৃজনশীল পেশার মানুষদেরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই বাবা ভাঙ্গার ‘মানুষের বদলে যন্ত্রের শাসন’ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎবাণীটি পুনরায় ভাইরাল হয়েছে।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী: কী বলেছিলেন তিনি?
বাবা ভাঙ্গার ভক্তদের দাবি অনুযায়ী, তিনি অনেক আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এমন এক সময় আসবে যখন মানবজাতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। তিনি বলেছিলেন, “মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এক নতুন শক্তির উত্থান ঘটবে এবং সেই শক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।” যদিও তিনি সরাসরি ‘AI’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে তাঁর বর্ণনায় এমন এক অশরীরী অথচ শক্তিশালী বুদ্ধিমত্তার কথা ছিল যা মানুষকে কর্মহীন ও পরনির্ভরশীল করে তুলবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, বাবা ভাঙ্গা ২০২৫-২৬ সালের সময়কালকে মানবসভ্যতার এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁর মতে, এই সময়েই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে। কর্মক্ষেত্রে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আধিপত্য যে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবে, তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত তাঁর বক্তব্যে ছিল।
বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সংঘাত
বাবা ভাঙ্গার অনুসারীরা যখন তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, তখন যুক্তিবাদীরা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যে কোনো বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় পুরনো পেশা বিলুপ্ত হয় এবং নতুন পেশার সৃষ্টি হয়। শিল্প বিপ্লবের সময়ও মানুষ যন্ত্রের ভয়ে ভীত ছিল। তবে এবারের পার্থক্য হলো, এআই কেবল শারীরিক পরিশ্রম নয়, বরং মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকেও টেক্কা দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হোক বা না হোক, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কর্মক্ষেত্রের চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গুগল বা আমাজনের মতো সংস্থাগুলো যখন লাভের অঙ্ক বাড়াতে এআই-এর ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বাবা ভাঙ্গার সতর্কবার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতেই থাকে।
মানুষ এবং যন্ত্রের এই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, তা হয়তো সময়ই বলবে। তবে বাবা ভাঙ্গার রহস্যময় বাণীগুলো এই ডিজিটাল যুগেও এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ এবং আশঙ্কার সৃষ্টি করে রেখেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
