Debolinaa Nandy: বিয়ের পর থেকেই দেবলীনা নন্দীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। পারিবারিক অশান্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
দেবলীনা নন্দী। ছবিঃ ফেসবুক।
সোনারপুর, সুমন সাহা: গায়িকা বলেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অনেকটাই উর্ধ্বে দেবলীনা নন্দী। তাঁর গান যতটা জনপ্রিয় মানুষের কাছে তিনিও কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকটাই জনপ্রিয়। গানের পাশাপাশি তার নিজের জীবনসঙ্গীকে ২০২৪ সালে ১০ ডিসেম্বর সাত পাকে আবদ্ধ হয়। ঠিকঠাকই চলছিল দু’জনের সম্পর্ক। তার মাঝে হঠাৎ দু’জনের সম্পর্কের ভাঙন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসে। কয়েকদিন আগে দু’জনের মধ্যে কোনওরকম সমস্যার কারণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।
যদিও সেই ঘটনার পর তিনি প্রাণে বেঁচে যায়। ঘটনায় কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় গায়িকার দিদি একগুচ্ছ অভিযোগ করেন দেবলীনা নন্দীর স্বামী প্রবাহ নন্দী নামে। তবে সেখানেই থেমে নেই, দেবলীনা নন্দী তাঁর স্বামী প্রবাহ এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানাতে জানুয়ারি মাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির 498A ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিযোগে দেবলীনা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। পারিবারিক অশান্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। জানুয়ারি মাসে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরই প্রবাহ তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দেন। তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই মুহূর্তে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বধূ নির্যাতনের মামলাটি এখনও আদালতে ওঠেনি, তবে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ‘স্ত্রী ধন’ হিসেবে বিয়ের সময় পাওয়া সোনার গয়না, নগদ অর্থ ও কিছু আসবাবপত্র পুলিশি সহায়তায় প্রবাহের বাড়ি থেকে ফেরত পেয়েছেন দেবলীনা। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। পাশাপাশি, প্রবাহের কাছে খোরপোশ চেয়ে আইনি আবেদনও করেছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে সংগীত মহল ও অনুরাগীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পুলিশ এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এ প্রসঙ্গে দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।