)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পুষ্কর মেলার (Rajasthan’s Pushkar fair) সেই ‘বাঘিনী-চক্ষু’ নারী (Tigress-eyed woman), ২০ বছর পরে যাঁর ছবি আবারও ভাইরাল। পাপ্পু দেবী (Pappu Devi)। ২০ বছর আগে যখন সোশ্যাল মিডিয়ার তেমন চল ছিল না, তখনই একটি ছবি রাজস্থানের মরুশহর পুষ্করের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ছবিতে পাপ্পু দেবী তাঁর বিরল হলদেটে-সবুজ (Yellow-green) চোখের মায়াবী ও তীক্ষ্ণ চাউনির জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন। আবারও তিনি ইন্টারনেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
‘বাঘিনী-চক্ষু-নারী’
প্রায় দুই দশক আগে পুষ্কর মেলার সময় এক বিদেশি পর্যটক, তিনি আবার একজন আলোকচিত্রীও, পাপ্পু দেবীর একটি ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিটি রাতারাতি বিখ্যাত হয় তাঁর চোখের কারণে। ভারতের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পোস্টকার্ড এবং স্যুভেনির হিসেবে ছবিটি বিক্রি হতে শুরু করে। অনেকেই তাঁর সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টির জন্য তাঁকে ‘বাঘিনী-চক্ষু-নারী’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
নিজের ছবি নিজেই বেচেন!
বর্তমানে পাপ্পু দেবীর বয়স ৩০-এর কোঠার শেষের দিকে। তিনি এখনও পুষ্কর মেলা প্রাঙ্গণের কাছে একটি ছোট ফুটপাথ স্টল চালান। সেখানে তিনি রাজস্থানি ঘরানার হাতে তৈরি ব্যাগ এবং ঘর সাজানোর জিনিসপত্র বিক্রি করেন। মজার বিষয় হল, তাঁর দোকানে নিজের সেই বিখ্যাত ২০ বছর আগের ছবির পোস্টকার্ডও তিনি এখনও বিক্রি করেন। অনেক পর্যটক তাঁর দোকানে এসে হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিই সেই বিখ্যাত ছবির নারী।
উত্তরাধিকার সূত্রে চোখ
পাপ্পু দেবী বিবাহিত, তাঁর তিনটি মেয়ে রয়েছে। বিষ্ময়কর বিষয় হল, তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে দুজনের চোখ হুবহু মায়ের মতো– সেই একই রকম বিরল এবং উজ্জ্বল। মেলায় আসা অনেক পর্যটক তাঁদের দেখে অবাক হন এবং জানতে চান যে তাঁরা লেনস পরেছেন কি না। কিন্তু পাপ্পু দেবী গর্বের সাথে জানান যে, এটি তাঁদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
পাপ্পুদেবী কি ‘বানজারা’?
দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই মনে করতেন যে, পাপ্পু দেবী হয়তো রাজস্থানের যাযাবর ‘বাঞ্জারা’ সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি বাঞ্জারা সম্প্রদায়ের নন। তিনি জানান, বহু বছর আগে এক আলোকচিত্রী তাঁকে বলেছিলেন যে বাঞ্জারাদের মতো পোশাক পরলে তা তাঁর চোখের রঙের সঙ্গে ব্যাপারটা খুব ভালো মানাবে এবং তাঁকে আরও সুন্দর দেখাবে। সেই থেকেই তিনি এই বিশেষ ঘরানার পোশাক পরেন।
চোখের জাদু
২০ বছর আগের সেই একটি ছবি পাপ্পু দেবীকে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছিল। আজও যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সেই পুরনো ছবি ঘুরে বেড়ায়, মানুষ তাঁর চোখের জাদুতে মুগ্ধ হন। সাধারণ জীবন যাপন করলেও, তাঁর সেই ‘বাঘিনী-চক্ষু’ আজও পুষ্করের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
(Feed Source: zeenews.com)
