
এই সম্মেলনের লক্ষ্য কী ? প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে। AI অভূতপূর্ব উপায়ে মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তবে যদি তা ঠিকভাবে পরিচালিত না করা হয় তাহলে সামাজিক ভিত্তিকেও পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। এই কারণেই আমরা এই শীর্ষ সম্মেলনটি এমন কিছুর উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছি যা কেবল উদ্ভাবন নয়, অর্থপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করবে। ‘সর্বজন হিতে, সর্বজন সুখে’ ভারতীয় সভ্যতার দর্শনকে তুলে ধরছে। প্রযুক্তিরও শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত, ‘সকলের কল্যাণ, সকলের সুখ।’ প্রযুক্তি মানবতার সেবা করার জন্য রয়েছে, তার জায়গা নেওয়ার জন্য নয়। এই শীর্ষ সম্মেলনটি মানুষ, গ্রহ এবং উন্নতিকে কেন্দ্র করে গঠিত। এআই সিস্টেম বিশ্বব্যাপী সমাজ থেকে পাওয়া জ্ঞান এবং তথ্যের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। অতএব, আমরা চাই, এআই-এর সুবিধা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক। গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম বিশ্বমানের এআই শীর্ষ সম্মেলনে, ভারত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যা চাপা পড়ে থাকা কণ্ঠস্বর এবং উন্নয়নে অগ্রাধিকারকে জোরদার করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “AI-তে পক্ষপাত এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কিত উদ্বেগ এখনও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। AI গ্রহণ যত দ্রুত হচ্ছে, ঝুঁকিও তত বাড়ছে। AI সিস্টেমগুলি অসাবধানতাবশত লিঙ্গ, ভাষা এবং আর্থ-সামাজিক সম্পর্কিত পক্ষপাতকে স্থায়ী করতে পারে। এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারকে একত্রিত করেছে। এআই-এর পক্ষপাত এবং সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলিতে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করছে। এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা প্রয়োজন। ভারতের ক্ষেত্রে, আমরা অনন্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগের মুখোমুখি। আমাদের বৈচিত্র্য – ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক – এর অর্থ হল AI পক্ষপাত এমনভাবে প্রকাশ পেতে পারে যা পশ্চিমের প্রেক্ষাপটে নাও হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ইংরাজি তথ্য বা শহুরে প্রেক্ষাপটের ওপর প্রশিক্ষিত একটি AI সিস্টেম গ্রামীণ ব্যবহারকারী বা আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের জন্য খারাপভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু, এক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকটা হল যে, ভারত আরও পদ্ধতিগতভাবে এই বিষয়টির মোকাবিলা করতে শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হল, ভারত যেন বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুপার-পাওয়ারের মধ্যে স্থান পায়, কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেই নয়, সৃষ্টির ক্ষেত্রেও।”
(Feed Source: abplive.com)
