ED on I-PAC Case: ‘ভয় পেয়ে গিয়েছিল…,’ আদালতে ইডি-র দাবি Z+ নিরাপত্তা ‘ব্যবহার’ করে তল্লাশি থামিয়ে দিয়েছিলেন মমতা

ED on I-PAC Case: ‘ভয় পেয়ে গিয়েছিল…,’ আদালতে ইডি-র দাবি Z+ নিরাপত্তা ‘ব্যবহার’ করে তল্লাশি থামিয়ে দিয়েছিলেন মমতা

ঘটনায় CBI তদন্ত চেয়েছে ইডি৷ I-PAC কাণ্ডে রাজ্য তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ৷ ইডি-কে ‘হাতিয়ার’ করার অভিযোগ উড়িয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংসঅথা দাবি করেছে, তাঁদের আধিকারিকরাই ‘ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন৷’

ইডি-র তল্লাশির দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসন, তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ আবেদন দাখিল করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, ইডি৷ I-PAC কাণ্ডে আর্টিকেল ৩২ ধারায় আবেদন করা হয়েছে৷ গত ৮ জানুয়ারি ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে কয়লা কাণ্ডের তদন্তের প্রেক্ষিতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি৷ সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া ঘিরে এই আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা এবং কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে৷ বুধবার শুনানি চলাকালীন আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ‘হাতিয়ার’ করার অভিযোগের উত্তরে ইডির তরফে জানানো হয়, আদতে ঘটনার দিন ‘টেররাইসজড’ (আতঙ্কিত) হয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা৷

ইডির অভিযোগ, কয়লা কাণ্ডের তদন্তে ওইদিন তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে চলে আসেন এবং কিছু নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে চলে যান৷ তাদের অভিযোগ, ওই দিন নিজের ‘Z+’ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘ব্যবহার’ করে কম্পিউটারের ব্যাক আপ ডেটা নেওয়া থামিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করেন৷

এজেন্সির তরফে দাবি করা হয়েছে, ধস্তাধস্তি হাতাহাতি এড়াতেই তাঁরা তল্লাশি থামিয়ে নিয়েছিল৷ প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, ইডির আধিকারিকেরা তাঁকে নথিপত্র নিয়ে যেতে দিয়েছিলেন৷ ইডি সেই দাবি নস্যাৎ করেছে৷

ইডি আদালতকে জানিয়েছে, তাঁদের আধিকারিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তারা বলেছে, ইডি-র আধিকারিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার এবং আইনসম্মত দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু, তাদের অভিযোগ তাদের ভয় দেখানো, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং তাদের উপরে প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।

এমনকি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের দাবিও নস্যাৎ করেছে তারা৷ জানিয়েছে, তল্লাশি চালানোর আগে রাজ্য পুলিশকে জানানোর কোনও আইনি বাধ্যতা তাদের নেই৷

ইডি আদালতে দাবি করেছে, ওইদিন ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC র বিরুদ্ধে তল্লাশি ওয়ারেন্ট ছিল৷ তাতে অভিযোগ করা হয়েছিল, অবৈধ কয়লা খনির প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল৷ তা গোয়ায় নগদে রূপান্তরিত হয়ে এবং আই-প্যাকে ঢোকে।

এদিন ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করে ইডি-র আইনজীবী আদালতে জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ‘অনাচার’ বন্ধ হওয়া দরকার৷ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল দাবি করেছে, তল্লাশির নাম করে আসলে ভোটের আগের তথ্য হাতাতে ওই অভিযান করানো হয়েছিল ইডি-কে দিয়ে৷