H-1B Visa: মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হল না! H-1B ভিসা না মেলায় ৮ বছর টেক্সাস থেকে ফেরা হয়নি দেশে, ‘স্ট্রেসে’ মারাই গেলেন যুবক ‘শশী’…

H-1B Visa: মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হল না! H-1B ভিসা না মেলায় ৮ বছর টেক্সাস থেকে ফেরা হয়নি দেশে, ‘স্ট্রেসে’ মারাই গেলেন যুবক ‘শশী’…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কখনও পাননি H-1B ভিসা  (H-1B visa lottery)। টানা ৮ বছর বাড়ি ফিরতে পারেননি! আমেরিকায় ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় যুবকের মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (US) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শশীকান্ত রেড্ডি দন্তীরেড্ডি (Sasikanth Reddy Donthireddy) নামে ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় যুবকের (death of an Indian man) মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃতদেহ ভারতে পাঠানোর জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ফান্ডরেইজার খোলা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, শশীকান্ত প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।

২০১৮-য় মার্কিন মুলুকে

শশীকান্ত ২০১৮ সালে পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি ডাবল মাস্টার্স ডিগ্রিও অর্জন করেন। তবে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনে নেমে এল ঘোর অভিশাপ। বারবার চেষ্টা করেও ভিসা লটারিতে তাঁর নাম ওঠেনি দেখে ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি পানওনি H-1B ভিসা। হৃদরোগে মৃত্যু হল তাঁর। অবসাদেই কি?

মানসিক চাপ

তাঁর দেহ দেশে পাঠানো হবে। কিন্তু টাকা নেই। ফলে অর্থসংগ্রহ চলছে। সংশ্লিষ্ট ফান্ডরেইজার তথা অর্থ সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, ভিসার অনিশ্চয়তা এবং বারবার তজ্জনিত ব্যর্থতা শশীকান্তকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বিশেষ করে গত কয়েক মাস তিনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ভালো কোনো চাকরি না পাওয়া এবং অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা তাঁর জীবনে বড় রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

পরিবার থেকে বিচ্ছেদ

২০১৮ সালে আমেরিকা যাওয়ার পর থেকে গত ৮ বছর তিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এদিকে তাঁর বাবা-মা তাঁর জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা ক্রমাগত ভাবছিলেন যে, তাঁদের ছেলে একদিন অনেক গৌরব ও ঔজ্জ্বল্য নিয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এখন তাঁরা ছেলের নিথর দেহের জন্য অপেক্ষা করছেন।

করুণ বাস্তব

১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে শশীকান্ত তাঁর বুকে ব্যথা হওয়ার কথা জানান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা করা যায়নি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এখন চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। শশীর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং শেষকৃত্যের খরচ জোগাড় করার জন্য সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লড়াই এবং ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার করুণ বাস্তবকেই তুলে ধরে।

(Feed Source: zeenews.com)