After 1940 This Village Of Bihar Held Baraat Ending An 85 Years Old Superstition: ৮৫ বছরের কু-সংস্কার ও অপেক্ষায় অবসান। ১৯৪০ সালের পর ফের বরযাত্রী সহ শোভাযাত্রা বার করল বিহারের পাটওয়া টোলি গ্রানে পাটওয়া পরিবার।
৮৫ বছরের কু-সংস্কার ও অপেক্ষায় অবসান। ১৯৪০ সালের পর ফের বরযাত্রী সহ শোভাযাত্রা বার করল বিহারের পাটওয়া টোলি গ্রানে পাটওয়া পরিবার। বিহারের গয়া জেলার এই গ্রাম মূলত তাঁতিপাড়া। সাধারণত তাঁত মেশিনের শব্দেই বেশি পরিচিতি। তবে প্রায় প্রায় নয় দশক পর আবার সেই গ্রামের রাস্তায় দেখা গেল ঘোড়ায় চড়ে বরের শোভা যাত্রা।
এই পরিবার বহু দশক ধরে বর সহ শোভাযাত্রা বার করত না। কিন্তু সম্প্রতি পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য রাজু পাটওয়ার বিয়েতে সেই নিয়ম ভেঙে ঘোড়ায় চড়ে বরযাত্রা বের হওয়ায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রাজুর দাদা জানকি প্রসাদ ও বাবা পান্না লাল জানান, তাঁদের জীবনে প্রথমবার নিজেদের পরিবারের কোনো বরকে শোভাযাত্রায় যেতে দেখলেন। তাঁদের কাছে এটি শুধু বিয়ে নয়, বহু বছরের মানসিক বাধা কাটিয়ে ওঠার মুহূর্ত।
পরিবারের এই অদ্ভুত নিয়মের শুরু ১৯৪০ সালে। তখন জানকি প্রসাদের শৈশবের বিয়েতে হঠাৎ তাঁর বড় ভাই মারা যান। সেই শোকের ঘটনার পর পরিবার বরযাত্রাকে অশুভ মনে করতে শুরু করে। এরপর থেকে সিদ্ধান্ত হয়, বিশেষ শুভ লক্ষণ না ঘটলে পরিবারের কোনো বিয়েতে শোভাযাত্রা বের হবে না।
দশকের পর দশক ধরে এই নিয়ম মেনেই চলছিল পরিবারের সদস্যদের বিয়ে। পরিবারের বহু সদস্য নীরবে বিয়ে করেছেন—কোনো ব্যান্ড, মিছিল বা ঘোড়া ছাড়াই। সাধারণত কনের পরিবারই কনেকে নিয়ে আসত বরের বাড়িতে, আর সেখানেই বিয়ে সম্পন্ন হতো। এতে প্রথা রক্ষা হয়েছে, কিন্তু আনন্দঘন শোভাযাত্রার অভাব থেকেই গিয়েছিল।
অবশেষে রাজুর বিয়ের দুই দিন আগে পরিবারে এক শিশুর জন্ম হয়, যাকে শুভ সংকেত হিসেবে ধরা হয়। তখন প্রবীণদের সম্মতিতে বরযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়। সবাই এটিকে কুসংস্কার ভাঙার সোনালি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। শোভাযাত্রা বের হলে প্রতিবেশীরাও ভিড় করে দেখেন, আর পরিবার জানায়—এবার থেকে আর এই পুরোনো ভয় ও কু-সংস্কার মানা হবে না।
(Feed Source: news18.com)