
অয়ন শর্মা: দেশজুড়ে জরায়ুমুখের ক্যানসার রোধে বড় সিদ্ধান্ত। বিনামূল্যে দেওয়া হবে ভ্যাকসিন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশে ও বিশ্বজুড়ে জরায়ুমুখের ক্যানসার (Cervical Cancer) একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এই রোগের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্যানসার একমাত্র টিকাকরণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই প্রেক্ষিতে ১৪ বছর বয়সী সকল কিশোরীর জন্য এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি রাজস্থানের আজমের থেকে জাতীয় স্তরে এই টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করবেন। বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের ভার্চুয়াল উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
কবে থেকে পাওয়া যাবে এই ভ্যাকসিন:
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় উদ্বোধনের পর একই দিনে প্রত্যেক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সকল সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, এই প্রকল্পে এইচপিভি টিকা গার্ডাসিলের একটি টিকা দেওয়া হবে। এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এই টিকা। ওই ভাইরাসের কারণে সার্ভিক্স বা জরায়ুমুখ ক্যানসার হতে পারে।
কটি ডোজ নিতে হবে:
খোলা বাজারে গার্ডাসিল-৪-এর একটি ডোজের দাম ৩,৯২৭ টাকা। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের মোট দু’টি ডোজ দিতে হয়। ১৫ বছরের বেশি বয়সি মেয়েদের টিকার তিনটি করে ডোজ দিতে হয়। এমএসডি ইন্ডিয়া এই টিকা তৈরি করে। তবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এই টিকা বিনামূল্যে পাবে ১৪ বছরের কিশোরীরা। টিকা নিলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মত।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে মহিলাদের যে ধরনের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি হয়, সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সার্ভিক্স ক্যানসার। প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মহিলা নতুন করে এতে আক্রান্ত হন। এই ক্যানসারে প্রাণ যায় প্রতি বছর প্রায় ৪২ হাজার মহিলার।
(Feed Source: zeenews.com)
