)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এবার টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শুরুর আগে থেকে একটা কথাই আকাশে-বাতাসে ভাসছিল। টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকেই ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গ্রুপ পর্বে সূর্যকুমার যাদবের অশ্বমেধের ঘোড়া ছিল অপ্রতিরোধ্য। গ্রুপের চার ম্যাচের চারটিতেই ভারতের বিজয়ধ্বজা উড়েছিল। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকাকে ২৯ রানে হারিয়ে কাপযুদ্ধের অভিযান শুরু করে টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়াকে ৯৩ রানে হারায় ভারত। তৃতীয় ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে গুঁড়িয়ে ভারত কেটে ফেলে সুপার এইটের টিকিট। এমনকী গ্রুপের শেষ তথা নিয়মরক্ষার ম্যাচেও ভারত ১৭ রানে জেতে।
রিয়ালিটি চেক!
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সুপার আটের প্রথম ম্যাচেই ভারত পুরো মুখ থুবড়ে পড়ে। গতবারের বিশ্বকাপ রানার্স দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারে গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) টিমের রিয়ালিটি চেক হয়ে যায়। রামধনু দেশের কাছে হেরেই ভারতের রক্তচাপ চড়চড় করে বেড়ে গিয়েছে। যে দলকে ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই দলেরই এখন শেষ চারে ওঠার রাস্তা ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু হয়ে গিয়েছে। টিকে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জিং বিশ্বকাপের আসরে নেট রান রেটই বিরাট ফারাক গড়ে দেয়। আর সেই অঙ্কই এখন ভারতের মাথায়! এখন জেনে নিন যে কোন কোন সমীকরণে ভারত সেমিফাইনালে যেতে পারে। তবে সবার আগে আপনাকে জানতে হবে পয়েন্ট তালিকায় ভারতের কী অবস্থান।
সুপার এইটে গ্রুপ ওয়ানে এখন যা অবস্থা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ১ ম্যাচ খেলে ১টি জয় পেয়েছে, তাদের নেট রান রেট +৫.৩৫০
দক্ষিণ আফ্রিকা- ১ ম্যাচে খেলে ১টি জয় পেয়েছে, তাদের নেট রান রেট +৩.৮০০
ভারত-১ ম্যাচ খেলে ১টি হেরেছে, তাদের নেট রান রেট -৩.৮০০
জিম্বাবুয়ে ১ ম্যাচ খেলে ১টি হেরেছে, তাদের নেট রান রেট -৫.৩৫০
ভারতের সেমিফাইনালে যোগ্যতা অর্জনের পরিস্থিতি
প্রথম পরিস্থিতি: বাকি দুটি ম্যাচই জয় (একেবারে আদর্শ)
যদি ভারত জিম্বাবোয়ে (২৬ ফেব্রুয়ারি) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (১ মার্চ) হারিয়ে দেয় তাহলে তাদের ৪ পয়েন্ট থাকবে।
অটোমেটিক কোয়ালিফিকেশন: যদি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের বাকি ম্যাচগুলি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে) জিততে পারে, তাহলে তারা ৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করবে এবং ভারত দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে সেমি ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করবে।
ত্রিমুখী টাই (নেট রান রেট নির্ভর): যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা জিম্বাবোয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়, তাহলে তিন দলেরই ৪ পয়েন্ট হবে। এই ক্ষেত্রে ভারতের -৩.৮০০ নেট রান রেট একটি বড় অসুবিধা এবং প্রতিযোগীদের ছাপিয়ে যেতে গেলে বিশাল জয়ের ব্যবধান- সম্ভাব্য ৮০-১০০+ রান প্রয়োজন হবে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি: এক ম্যাচ জিতলে, যদি ভারত তাদের বাকি দুটি খেলার মধ্যে মাত্র একটিতে জিততে পারে, তাহলে ভারত ২ পয়েন্টে শেষ করবে। এর ফলে প্রায় নিশ্চিত ভাবেই বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি না একাধিক ফলাফল তাদের পক্ষে যায় এবং একাধিক দলের মধ্যে ২ পয়েন্টের সমতা তৈরি হয়, যেখানে এনআরআর আবারও সিদ্ধান্ত নেবে।
তৃতীয় পরিস্থিতি: জিম্বাবোয়ের কাছে হার! সিকন্দর রাজার দলের কাছে সূর্যকুমাররা হেরে গেলেই ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যাবে। কারণ বাস্তবসম্মত ভাবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে না।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ভারতের যে যে জয়ের ব্যবধান প্রয়োজন
২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ভারত-জিম্বাবোয়ে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম পরিস্থিতি: ভারত প্রথমে ব্যাট করলে
ভারত যদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে, তাহলে ইতিবাচক এনআরআর অঞ্চলে যেতে হলে তাদের কমপক্ষে ৭৭ রানে জিততে হবে।
উদাহরণ: ভারত যদি ২০০ রান করে, তাহলে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ রান বা তার কম রানে বেঁধে ফেলতে হবে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি: ভারত রান তাড়া করলে
ভারত যদি প্রথমে বল করে, তাহলে তাদের দ্রুত রান তাড়া করতে হবে, ১১ থেকে ১২ ওভারের মধ্যে করতে পারলেই ভালো, টার্গেটের উপর নির্ভর করে।
১৫০ রানের লক্ষ্য: ভারতকে আনুমানিক ১১.০ ওভারের মধ্যে তা অর্জন করতে হবে।
১৮০ রানের লক্ষ্য: ভারতকে আনুমানিক ১১.৪ ওভারের মধ্যে তা অর্জন করতে হবে
(Feed Source: zeenews.com)
