
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আফগান তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটির ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে’ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের বিমান বাহিনী পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি। কোয়েটার (বালুচিস্তান) ১২তম ডিভিশন সদর দফতর। খাইবার পাখতুনখোয়ার খোয়াজাই ক্যাম্প। তালেবানদের দাবি, তাদের এই অভিযানে পাকিস্তানের বেশ কিছু কমান্ড সেন্টার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) জানিয়েছে, আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তালেবানরা। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট প্যারাসুটের সাহায্যে নীচে নামলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে জীবিত অবস্থায় আটক করে।
গত কয়েকদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার থেকে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহারে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই হামলায় ১৩৩ জন তালেবান নিহত এবং ২০০-র বেশি আহত হয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদে তালেবানরা সীমান্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, এই সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর নূর খান বিমান ঘাঁটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। নতুন করে এই ড্রোন হামলার ফলে সেই কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বড় হুমকির মুখে ফেলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
