IDF Women Soldiers: সন্তান ফেলেই যুদ্ধক্ষেত্রে! কোটের চিরকুটে লেখা… IDF-এর মহিলা বাহিনীর সাহসকিতার অবিশ্বাস্য ইতিহাস…

IDF Women Soldiers: সন্তান ফেলেই যুদ্ধক্ষেত্রে! কোটের চিরকুটে লেখা… IDF-এর মহিলা বাহিনীর সাহসকিতার অবিশ্বাস্য ইতিহাস…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কথাতেই আছে যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। ইসরায়েলের মেয়েরা যেন সেই প্রবাদের প্রমাণ রেখে চলেছে সীমান্ত রক্ষা থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে, খাকি উর্দি গায়ে মেশিনগান হাতে। শুধু সন্তান বা সংসার ধর্ম পালন নয়, ইসরায়েলি মেয়েদের রক্তে লুকিয়ে সাহসিকতার এক ধারাবাহিক ইতিহাস। যে ইতিহাস বলে, দেশরক্ষায় নিজের সন্তানকে ত্যাগ করে খাকি উর্দি গায়ে চড়িয়েছিলেন এক ইসরায়েলি মা! প্রমাণ করেছিলেন, সাহস কখনও শুধু পুরুষের সম্পত্তি নয়! সাহস কখনও একলিঙ্গের নয়!

পশ্চিমা বিশ্বে IDF বা ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স-ই একমাত্র সেনাবাহিনী যেখানে আইন অনুসারে মেয়েদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। ১৯৪৮ সালে IDF প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি ঘটে। প্রথমে তারা মূলত সামরিক ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ, নার্সিং অথবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে যুদ্ধে সৈন্য ঘাটতি মেটাতে কমব্যাট ফোর্সেও অপারেশনাল পদে চলে আসেন। বর্তমানে মেয়েরা আইডিএফ-এ আর্টিলারি কোর থেকে ট্যাঙ্ক চালানো, হেলিকপ্টার ওড়ানো সবেতেই তাঁরা সিদ্ধহস্ত। বিমান প্রতিরক্ষাতেও সিনিয়র কমান্ডার পদে উন্নীত হচ্ছেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে বিমান বাহিনী-সহ সমস্ত কমব্যাট ইউনিটে মেয়েদের জন্য দরজা খুলে যায়।

সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নয়, ব্যাটেলগ্রাউন্ডকে বেছেছিলেন মিরা-বেন-আরির 

ইসরায়েলের মহিলা বাহিনীর সঙ্গে জডিয়ে রয়েছে এক মায়ের অসম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের গল্প। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় কিবুৎজ নিতজানিমে মিরা বেন-আরির নামে একজন রেডিও অপারেটর ছিলেন। তিনি তাঁর শিশুপুত্রকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অস্বীকার করেন। বদলে তাঁর কোটে একটি চিরকুটে লিখে রাখেন, “আমি আমার পুত্রকে বিদায় জানাচ্ছি, যাতে সে একটি নিরাপদ স্থানে বেড়ে ওঠে ও তাঁর দেশের একজন স্বাধীন মানুষ হয়।” যুদ্ধে পরবর্তীকালে মীরা মারা যান। তাঁর কোটে মেলে সেই চিরকুট!

নিতজানিমের উইমেন অফ ভ্যালর সেন্টারে সংগ্রামী ইহুদি নারীদের স্মরণে রয়েছে ভাস্কর শোশ হেফেজের তৈরি স্মৃতিস্তম্ভও। একদা আইডিএফ-এর এক মুখপাত্র বলেছিলেন,যুদ্ধে নারীদের অবদান কেবল শুধু স্লোগান বা কোনও নৈতিক অধিকার রক্ষার বিবৃতি নয়, বরং নারীরাও যুদ্ধক্ষেত্রে সমানভাবে কর্মক্ষম।  উল্লেখ্য, তাঁর মেয়েও একটি যুদ্ধ ইউনিটে কর্মরত। বলা হয়ে থাকে, আইডিএফ-এর মেয়েরা সাহসিকতা ও সৌন্দর্যের মিশেল। এমনকি মিস ইসরায়েল গ্যাল গ্যাডোটও ২ বছর ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সে কর্মরত ছিলেন।

২০২৫-এ ৫,০০০ এরও বেশি মহিলা সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। একদিকে যেমন মিশর, জর্ডান এবং দেশের পশ্চিম সীমান্তে পুরুষ সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত আইডিএফ-এর মহিলা বাহিনী, ঠিক তেমনই কেউ কেউ মেরকাভা ট্যাঙ্কেও কাজ করছেন। সাম্প্রতিককালে আইডিএফ-এর মহিলা ব্যাটালিয়ন গাজা উপত্যকায় মিশনও পরিচালনা করেছে। আইডিএফ-এর মিশ্র ব্যাটেলিয়নে প্রায় ৬০% এরও বেশি মহিলা সেনা।

(Feed Source: zeenews.com)