‘ইরানে’ ভারতীয় পড়ুয়ারা কোন ‘সাবজেক্ট’ পড়তে যায় জানেন…? ‘উত্তর’ শুনলে চমকাবেন!

‘ইরানে’ ভারতীয় পড়ুয়ারা কোন ‘সাবজেক্ট’ পড়তে যায় জানেন…? ‘উত্তর’ শুনলে চমকাবেন!

Indian Students In Iran: উত্তপ্ত ইরান! ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলায় অস্থির ইরানের মাটি। আঁচ এসে পৌঁছেছে ভারতেও। বর্তমান পরিস্থিতি যেমন প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে এই দেশটিকে আচমকাই, ঠিক তেমনি সেখানে পড়াশোনা করতে যাওয়া হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্রের নিরাপত্তা নিয়ে তুলে দিয়েছে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। কিন্তু জানেন কী কোন সেই বিশেষ ‘বিষয়’ যা পড়তে প্রতি বছর শয়ে শয়ে ছাত্র-ছাত্রী ছোটেন এই দেশে? চমকে যাবেন শুনলে!

ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা সেখানে পড়াশোনা করতে যাওয়া হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে তুলে দিয়েছে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।

এই পরিস্থিতিতে ইরান নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, আসুন জেনে নেওয়া যাক ভারতীয় ছাত্ররা ইরানে মূলত ঠিক কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে যায় এবং বর্তমানে সেখানে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাই বা কত?

‘ইরানে’ ভারতীয় পড়ুয়ারা কোন ‘সাবজেক্ট’ পড়তে যায় জানেন…? ‘উত্তর’ শুনলে চমকাবেন!

ইরানে বর্তমানে কতজন ভারতীয় ছাত্র আছে?গত ১০ বছরে, ইরান ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ভারতীয় পড়ুয়া ইরানে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করছেন।

গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা ক্রমাগত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে, ইরানে প্রায় ৭৩৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২০০০-এ পৌঁছয়।

বর্তমান বিমান হানার পরেও পরিসংখ্যান বলছে এখনও ১২০০ ভারতীয় পড়ুয়া ইরানে আটকে রয়েছেন। জানা গিয়েছে যে এই শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কাশ্মীর থেকে ওই দেশে গিয়েছেন পঠন পাঠনের উদ্দেশে। যার মধ্যে ১,২০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা।

রতীয় শিক্ষার্থীরা ইরানে কী পড়তে যায়?ভারতীয় শিক্ষার্থীরা মূলত ইরানকে বেছে নেয় তার চিকিৎসা শিক্ষার কারণে। অনেক ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর অফ মেডিসিন ডিগ্রি দেয়, যা ভারতে এমবিবিএস ডিগ্রির সমতুল্য।

ইরানে এই ছয় বছরের চিকিৎসা শিক্ষার মোট খরচ পরে ₹১৫ লাখ থেকে ₹৩০ লাখ। যার বার্ষিক ফি প্রায় ₹৬ লাখ। তুলনামূলকভাবে যেখানে ভারতের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলি ₹৩৫ লাখ থেকে ₹১.২৫ কোটির মধ্যে চার্জ করে এমবিবিএস পঠন পাঠনের জন্য। যা এদেশের যে কোনও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইরানকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প করে তুলেছে।

সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া :ভারতে, এমবিবিএস আসনের সীমাবদ্ধতার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে, NEET-UG পরীক্ষায় হাই স্কোর প্রয়োজন হয়। একদিকে সরকারি কলেজের আসন সীমিত, অন্যদিকে বেসরকারি কলেজগুলি খুবই ব্যয়বহুল।

ইরানে, মেডিক্যাল পড়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য সাধারণত NEET-তে যোগ্যতা অর্জনই যথেষ্ট। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনা করে, তবে কোনও অনুদান বা ক্যাপিটেশন ফি প্রয়োজন হয় না।

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় :ইরানের অনেক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। বেশ কয়েকটি ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ‘হু’ দ্বারা স্বীকৃত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয় স্নাতকরা সহজেই দেশে ফিরে লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে পারেন।

ধর্মীয় অধ্যয়নও একটি প্রধান কারণ :চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি, অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা, ধর্মীয় শিক্ষার জন্যও ইরানে যান। কোম এবং মাশহাদের মতো শহরগুলি শিয়া ইসলামী শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। কোম তার মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ পরিচিত।

আরেকটি বড় সুবিধা হল শিক্ষার মাধ্যম। ইরানে চিকিৎসা কোর্স প্রথম বা দুই বছর ইংরেজিতে পড়ানো হয়। পরবর্তীতে, ক্লিনিক্যাল যোগাযোগের জন্য পড়ুয়াদের মৌলিক ফার্সি ভাষা শিখতে হয়। জীবনযাত্রার খরচও বেশ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। হোস্টেল এবং খাওয়া-খরচ বাবদ মাসিক খরচ ₹১০,০০০ থেকে ₹১২,০০০ এর মধ্যেই হয়ে থাকে।

(Feed Source: news18.com)