
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে ভয়াবহ ঘটনা। শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ইরানের গেরাশ শহর। ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে এ ধরনের ভূ-কম্পন একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি নিহত হন। তার প্রত্যাঘাতে পালটা হামলা চালায় ইরানও।
এবার ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (IRGC) ঘোষণা করেছে যে, তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ডের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরদার ইব্রাহিম জব্বারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনও জাহাজ এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর এই চরম পদক্ষেপ নিল তেহরান।
কেন এই হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই সরু জলপথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে যায়। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এই পথেই এশিয়ায় (বিশেষ করে চীন ও ভারতে) তেল ও গ্যাস পাঠায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লেগে যাবে, কারণ এই পথের সহজ কোনও বিকল্প নেই।
(Feed Source: zeenews.com)
