)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুই তলার ট্রেনে চাপলে একই কামরায় দ্বিগুণ যাত্রী — বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শর্ট-হল রুটে এটাই হতে পারে গেমচেঞ্জার।
কলকাতা থেকে দুর্গাপুর, দিল্লি থেকে আগ্রা, মুম্বই থেকে পুণে — এই ধরনের ছোট দূরত্বের রুটে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী ঠেলাঠেলি করে ট্রেনে চাপেন। সিট নেই, টিকিট নেই, দম বন্ধ পরিবেশ। ঠিক এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ডবল ডেকার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
বিশেষজ্ঞ মহলে এখন জোর আলোচনা — ভারতীয় রেল কি এবার শর্ট-হল রুটে চালু করতে পারে দোতলা বন্দে ভারত? প্রশ্নটা যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, উত্তরটাও ততটাই চমকপ্রদ।
দোতলা কামরায় দ্বিগুণ যাত্রী — সংখ্যাটাই বলছে সব-
বর্তমানে ভারতীয় রেলের ডবল ডেকার ট্রেনে প্রতিটি কামরায় বসতে পারেন ১১৬ জন যাত্রী। সাধারণ চেয়ার কারে যেখানে জায়গা হয় মাত্র ৭৮ জনের, সেখানে দোতলা কামরায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি যাত্রী বহন সম্ভব। চেন্নাই-ব্যাঙ্গালোর রুটে ডবল ডেকার ট্রেনে চড়ে যাত্রীরা ইতিমধ্যে এর সুফল পেয়েছেন — ভাড়া শতাব্দী বা বন্দে ভারতের প্রায় অর্ধেক, অথচ যাত্রার মান বেশ ভালো।
এখন যদি এই দোতলা প্রযুক্তির সঙ্গে বন্দে ভারতের আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং মেলানো যায়, তাহলে কী হতে পারে? সেটাই ভাবাচ্ছে রেল বিশেষজ্ঞদের।
বন্দে ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে আজ?
২০১৯ সালে দিল্লি-বারাণসী রুটে প্রথম বন্দে ভারত ছাড়ার পর থেকে এই ট্রেন হয়ে উঠেছে ভারতীয় রেলের গর্বের প্রতীক। **Make in India** প্রকল্পের অন্যতম সেরা উদাহরণ এই ট্রেন — সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার।
এখন পর্যন্ত ৭৯টি বন্দে ভারত ট্রেন চলছে দেশজুড়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গুয়াহাটি-হাওড়া রুটে চালু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত **বন্দে ভারত স্লিপার** — যা দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রাকে দিচ্ছে রীতিমতো বিমানসুলভ আরাম। ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে ২৪ কামরার ৫০টি স্লিপার রেক তৈরির বড় অর্ডার ইতিমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে।
কিন্তু স্লিপার দূরে রাখুন — ছোট দূরত্বের ব্যস্ত রুটে যাত্রীভার সামলাতে এখন দরকার ভিন্ন সমাধান।
ডবল ডেকার বন্দে ভারতের সম্ভাবনা কতটা?
রেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লি-আগ্রা, মুম্বই-পুণে, চেন্নাই-ব্যাঙ্গালোর বা কলকাতা-দুর্গাপুরের মতো রুটে চাহিদা এতটাই বেশি যে সাধারণ চেয়ার কার দিয়ে সামলানো দিনদিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ডবল ডেকার বন্দে ভারত এই রুটগুলোতে একসঙ্গে দুটো সমস্যার সমাধান করতে পারে —
বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতা: একই ট্রেনে প্রায় দেড় গুণ বেশি মানুষ
কম খরচ: অতিরিক্ত ট্রেন না বাড়িয়েই যাত্রী পরিষেবা বৃদ্ধি
তবে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও কম নয়। দোতলা কামরায় লাগেজ রাখার জায়গা সীমিত। দীর্ঘদেহী যাত্রীদের জন্য ছাদের উচ্চতা অস্বস্তিকর হতে পারে। আর ওভারহেড বিদ্যুৎলাইনের উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রেলপথে কিছু পরিবর্তনও আনতে হবে।
রেলের স্বপ্ন বনাম বাস্তব
২০৪৭ সালের মধ্যে ৪,৫০০ বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারতীয় রেল। এই বিশাল পরিকল্পনার মধ্যে ডবল ডেকার সংস্করণ কবে জায়গা পাবে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে শর্ট-হল রুটে ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ এবং আসন সংকটের কথা মাথায় রেখে এই প্রশ্নটা এখন আর শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই।
রেলমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীর চাহিদা মেটাতে বন্দে ভারতের একাধিক নতুন সংস্করণ নিয়ে গবেষণা চলছে। ডবল ডেকার তার মধ্যে একটি বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
শেষ কথা: দুই তলার স্বপ্ন কি সত্যি হবে?
ভারতীয় রেলের ইতিহাস বলে — যা একদিন অলীক মনে হয়েছিল, তা-ই পরের দিন বাস্তব হয়েছে। বন্দে ভারত নিজেই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তাই ডবল ডেকার বন্দে ভারতের স্বপ্নকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ছোট দূরত্বের ব্যস্ত রুটে দোতলা বন্দে ভারত একদিন ছুটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তখন হয়তো টিকিটের জন্য আর মারামারি করতে হবে না — দোতলায় জানালার ধারে বসে চা খেতে খেতে দেখা যাবে ছুটে যাওয়া সবুজ মাঠ।
সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
(Feed Source: zeenews.com)
